চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছুটি আর কর্মবিরতির প্রভাব চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দর। পুরোনো ছবি
চট্টগ্রাম বন্দর। পুরোনো ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটি ও বহির্নোঙরে ভাসছে একের পর এক জাহাজ। রমজানকে সামনে রেখে চাল, ডাল, ছোলা, খেজুর, চিনি, ফলমূল ও ভোজ্যতেলসহ নানা ভোগ্যপণ্য নিয়ে আসা অন্তত ৫৫টি জাহাজ সময়মতো খালাস হতে না পেরে আটকে আছে। সব মিলিয়ে বন্দরে এখন পণ্যবোঝাই জাহাজের সংখ্যা ১১০টি। এর অর্ধেকের বেশি জাহাজেই রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

বন্দর সূত্র জানায়, আগামী দুদিনে আরও অন্তত ১০টি জাহাজ নোঙর করার কথা রয়েছে। ফলে জট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর শবে বরাতের পরবর্তী দুই সপ্তাহ খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে রমজানের পণ্যের সবচেয়ে বড় বেচাকেনা হয়। সেই সময়টিকেই লক্ষ্য করে আগেভাগে পণ্য আমদানি করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু টানা কর্মবিরতি ও জাতীয় নির্বাচনের ছুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত সময়ে পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যদিও খাদ্যপণ্য খালাসের সুযোগ রাখা হয়েছিল অনুমোদন সাপেক্ষে, তবে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ ও পরিবহন সংকটে খালাসের গতি ছিল অনেক কম।

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার টিইইউ (২০ ফুট একক) কনটেইনার খালাস হয়। কিন্তু কর্মবিরতির প্রথম ছয় দিনে মোট খালাস হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৮৬১ কনটেইনার- গড়ে দিনে ১ হাজার ৪৭৬টি। ফেব্রুয়ারির প্রথম ৯ দিনের মধ্যে তিনদিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ভোটের আগে-পরে তিন দিন গড়ে দেড় হাজার কনটেইনার খালাস হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কম।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলেও জাহাজ ও কনটেইনার জট এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে বন্দরে নোঙর করা ১১০টি জাহাজে প্রায় ৫০ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি কনটেইনার জাহাজ। খাদ্য সামগ্রীবাহী জাহাজ রয়েছে অন্তত ২০টি, চিনি বোঝাই জাহাজ পাঁচটি। এছাড়া তেল, গম, ডাল, মসুরসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজও রয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, তাদের তত্ত্বাবধানে অন্তত ৪৫টি জাহাজে ভোগ্যপণ্য খালাস হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৫৫ থেকে ৬০টি জাহাজে খাদ্যপণ্য রয়েছে। এগুলোর খালাস সম্পন্ন হতে অন্তত আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

৩১ জানুয়ারি কর্মবিরতি শুরুর আগের দিন জেটিতে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার ছিল ৩২ হাজার ১১১। কর্মবিরতির মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৩১২। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেটিতে কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪১ হাজার ৭২৫। ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা করছেন, নতুন করে কর্মসূচি এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের আগে সব জাহাজের পণ্য খালাস শেষ করা সম্ভব হবে না। এতে বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে, যদি নতুন করে কোনো কর্মসূচি না আসে। রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাই বন্দরের জাহাজজট ও খালাস সংকট এখন ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়েরই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রমজানের পণ্য খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে কর্মবিরতি ও নির্বাচনী ছুটির প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। ভোটের সময় অনেক পরিবহন শ্রমিক গ্রামে চলে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাকিব বুবলীর দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘটল কোথায়?

লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফকে ধাওয়া দিল এলাকাবাসী

এমপিওর দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষকদের পানি-স্যালাইন দিলো ছাত্র জমিয়ত

দুই মাদক কারবারীকে ইট দিয়ে বেধড়ক মারপিট, ভিডিও ভাইরাল

২৪ বিলিয়ন ডলারের জন্যই থমকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইসরায়েলে বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণ, বহু হতাহত 

বিশ্বকাপে রেকর্ড ১২৪৮ ফুটবলার, দেখে নিন ৪৮ দেশের চূড়ান্ত স্কোয়াড

কে জিতলো? অপু বুবলীকে নিয়ে মেতেছেন ভক্তরা

ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইএটিএল ইনোভেশন হাবের আলোচনা সভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহত ২০

১০

শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার ৫৬ ঘণ্টা

১১

বিশ্বকাপের জন্য ৭২ কোটি টাকায় মিডিয়া স্বত্ব কিনছে সরকার

১২

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু

১৩

বুবলীর খবরের মাঝেই অপুর পোস্টে কিসের ইঙ্গিত!

১৪

দীর্ঘ দুই দশক পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

১৫

বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

১৬

রামিসা হত্যা মামলার রায় পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত

১৭

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা / চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

১৮

দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি হামলা

১৯

মৃত মাকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

২০
X