

বরগুনার পাথরঘাটায় হরিণ শিকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মো. হানিফা (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৪০)।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে পাথরঘাটা পৌর এলাকায় কাজি অফিসে গিয়ে তালাক দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণসহ গ্রেপ্তার হন মো. হানিফা।
বরগুনার পাথরঘাটায় ফাঁদ পেতে দীর্ঘদিন হরিণ শিকার করতেন মো. হানিফা নামের এক ব্যক্তি।
গ্রেপ্তার হানিফা পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বাদুরতলা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী শাহীনুরকে নিয়ে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, শাহীনুর বেগমের ছোট ভাই বনবিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ের বাগান মালি হিসেবে কাজ করেন।
এ বিষয়ে জহিরুল বলেন, দুটি জবাই করা হরিণসহ গ্রেপ্তার হওয়া হানিফা আমার বোন জামাই। দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার থেকে তাকে ফিরে আসতে বলা হলেও তিনি ওই পথ থেকে ফিরে আসেননি। তিনি এতে আমারও দুর্নাম হয়েছে। তাই হরিণসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় আমার বোন শাহীনুর বেগম তাকে তালাক দিয়েছে।
পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম শরীফ বলেন, হানিফা আগে ছোট ট্রলারে মাছ ধরত। তবে কবে থেকে এ হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়ল তা বলতে পারছি না। দুটি জবাই করা হরিণ ও শিকারের ফাঁদসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর স্ত্রী শাহীনুর বেগম তাকে তালাক দিয়েছেন। তালাকের অনুলিপি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হানিফাকে গ্রেপ্তারের সময় হরিণ শিকারের ৯০০ ফিট ফাঁদ, একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও দুটি জবাই করা হরিণ জব্দ করেছে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড।
এ ঘটনায় পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ ভ্রাম্যমান আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে হরিণ দুটির চামড়া ও শিং সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাংসে কেরাসিন মিশিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।