

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গায়ে হাত দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আশরাফ শেখকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজী শামসুন্নেছা পাইলট উচ্চ-বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছে। সকালে এনসিপি নেতা আশরাফ স্ত্রীকে নিয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও বাহিরের কিছু শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করতে থাকে। শিক্ষার্থীরা বাহির থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র বর্মন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য অবরুদ্ধ আশরাফকে সরিয়ে নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা স্কুলের চত্বরে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে। প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত এনসিপি নেতাকে প্রধান শিক্ষকের রুমে অবরুদ্ধ করে রাখে তারা।
প্রধান শিক্ষক অরুন চন্দ্র বর্মন বলেন, এনসিপির সমন্বয়ক আশরাফ স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিনই পরীক্ষার আগে হলে দিয়ে যেত, আজকেও দিয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝামেলা হলে আমি আশরাফকে রুমের ডেকে আনি। শিক্ষার্থীদের দাবি পুলিশে না দেওয়া পর্যন্ত তারা পরীক্ষা বর্জন করবে, তখন পুলিশকে খবর দিয়ে আশরাফকে পুলিশের হাতে দেই। এখন পরীক্ষা নিরাপদে হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ইট পাটকেল নিক্ষেপ করায় আমি আহত হয়েছি।
এক শিক্ষার্থী জানান, হলের ভিতরে প্রবেশ করে গালাগালির অপবাদ দিয়ে আশরাফ এক শিক্ষার্থীর কলার ধরে। এ নিয়ে কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আশরাফকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এ বিষয়ে আশরাফ হোসেন জানান, আমার স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে দেই, ছাত্রলীগের কিছু ছেলেপেলে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে পুলিশ পাহারায় রক্ষা পেয়েছি।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা এনসিপির আশরাফকে নিরাপদে এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।