রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার ও রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকসহ ১৭ আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দলীয় পদে থেকে নৌকার বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় অন্য যাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সরকার, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আব্দুল মালেক মণ্ডল, সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান টুকু, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আবুল, যুগ্ম সম্পাদক আল মামুন প্রামাণিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক মুকবুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আশিকুর রহমান সজল, সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আজাহারুল হক, বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার লুৎফর রহমান, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক জাহানারা বেগম, ভবানীগঞ্জ পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ আক্তার বেবী, বাসুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপধ্যক্ষ আব্দুল বারিক, ঝিকরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক প্রামাণিক ও দ্বীপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্দুস সাত্তার। তারা সবাই এমপি এনামুল হকের অনুসারী।
জানা গেছে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। অপর দিকে দলের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। এ নিয়ে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ বিভক্ত। নেতাকর্মীদের এক গ্রুপ এনামুল হকের পক্ষ নিয়েছেন। আর অপর গ্রুপ কালামের পক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম হেলালের সভাপতিত্বে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম সান্টু, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার আবুল, তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বাক্কার মৃধা মুনছুর ও শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন মৃধা প্রমুখ।
সভায় বলা হয়, জেলা সভাপতি অনিল কুমার সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
জানতে চাইলে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আবুল বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার একই সঙ্গে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আমরা উপজেলা কমিটি থেকে অনিল সরকারকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। তা ছাড়া সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতিসহ কমিটির বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এসব সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। কাজেই আমাকে বা অন্য কাউকে বহিষ্কারের এখতিয়ার তাদের নেই। এটা তারা করতে পারেন না। বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।’ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেছেন, যারা এই ধরনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি ও বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে দল থেকে বহিষ্কার করে কীভাবে?’
মন্তব্য করুন