লালমনিরহাটে কয়েক দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল। এ সময় আরাম পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা কল্পনা আক্তারের অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে না পারায় কল্পনা এখন যেন বাড়িতে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। গর্ভের সন্তান আর নিজেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছে কল্পনার পরিবার।
কল্পনা সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা গ্রামের কৃষিশ্রমিক রুবেল মিয়ার স্ত্রী। বাবা একই উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল করিম।
জানা গেছে, দেড় বছর আগে কল্পনার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। পাঁচ মাস আগে কল্পনার গর্ভে সন্তান আসে। চলমান শৈত্যপ্রবাহে শীত নিবারণের জন্য বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তার পরনের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। এতে তার শরীরের হাঁটুর নিচ থেকে গলা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ পুড়ে যায়।
স্বামী রুবেল তাৎক্ষণিকভাবে কল্পনাকে লালমনিরহাট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসকরা বলেন, কল্পনার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। লম্বা সময় ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কল্পনার চিকিৎসা না করলে তাকে ও তার গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করাতে বলেন।
কল্পনার স্বামী রুবেল বলেন, ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করাতে না পেরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার ঢাকা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। কিন্তু টাকার অভাবে কল্পনা এখন তার বাবার বাড়ি ফুলগাছে বিছানায় শুয়ে পুড়ে যাওয়া ক্ষতের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
স্থানীয় মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কল্পনা নিজেও বাঁচতে চায় এবং গর্ভের সন্তানকেও বাঁচাতে চায়। কিন্তু পরিবারের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষজন সহায়তা করলে মা ও গর্ভের সন্তান দুজনকেই বাঁচানোর চেষ্টা করা যেত।
মন্তব্য করুন