দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৪, ০২:০০ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪, ০২:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরে মহাধুমধামে দুই জোড়া বট-পাকুড়ের বিয়ে

বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে। ছবি : কালবেলা
বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে। ছবি : কালবেলা

মহাধুমধামে দিনাজপুরে হয়ে গেল দুই জোড়া বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে। এই দুই বিয়েতে বর-কনে দুই পক্ষের মিলে অতিথি ছিল প্রায় ৫ হাজার। এ ছাড়া হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত ছিল বিয়ের স্থল।

বুধবার (১৩ মার্চ) একটি বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে হয়েছে শহরের রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে হিরা বাগান এলাকায় এবং অপর বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে হয়েছে সদর উপজেলার ৫নং শশরা ইউনিয়নের দাসাপাড়া গ্রামে।

দাসাপাড়া গ্রামের বিয়েটিতে অতিথিদের নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দুই বিয়েতেই অতিথি আপ্যায়নে ছিল নিরামিষ খাবার।

বট আর পাকুড় গাছের বিয়েতে ছিল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। বিয়ে ব্যাপক সাজসজ্জা ও আলপনা এঁকে তৈরি করা হয় ছাদনাতলা ও মাড়োয়া। বিয়ে পড়ান ৪ জন করে ৮ জন পুরোহিত।

শহরের রাজবাড়ীর হিরা বাগান এলাকায় বিয়ের আয়োজকরা জানান, বুধবার দুপুরে গায়েহলুদের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দিনাজপুরের সদরের রাজবাড়ী হিরাবাগান পুকুর পাড়া এলাকার বর বেশে পাকুড়গাছ, বাবা শ্রী জগদিস দেবনাথ ও মা পুতুল দেবনাথ। দিনাজপুরের সদরের হিরাবাগান পুকুর পাড়া এলাকায় কনে সেজে কুমারী বটগাছ, বাবা কালু মহন্ত ও মা আলপনা মহন্ত।

ছেলের বাবা শ্রী জগদিস দেবনাথ ও মা পুতুল দেবনাথ বলেন, তাদের কোন ছেলেসন্তান নেই। তারা চার কন্যার জনক-জননী। তাই তারা পুণ্যের আশায় ছেলে বেসে পাকুড় গাছকে বিয়ে দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেছেন।

অন্যদিকে মেয়ের বাবা কালু মহন্ত ও মা আলপনা মহন্ত জানান, তাদের কোনো কন্যাসন্তান নেই। তাদের দুই ছেলে। তাই তারা বট গাছকে মেয়ে সেবে বিয়ে দিয়ে দুনিয়াতে মেয়ে বিয়ের দায় পরিশোধ করছেন।

পুরোহিত বিজয় শ্রী নারায়ণ চন্দ্র ঝাঁ জানান, লোকাচার মেনে সনাতন রীতি অনুযায়ী ছেলেমেয়েদের যেভাবে বিয়ে হয় সেভাবেই বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটিকে বিয়ে বললেও আসলে এটি হলো বট-পাকুরড়কে এক সঙ্গে স্থাপন করা। কারণ বট-পাকুড় কোনো সময় এক সঙ্গে জন্মায় না। তাই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।

একই রীতিতে সদর উপজেলার ৫ নং শশরা ইউনিয়নের দাসাপাড়া গ্রামে বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে হয়েছে। সেখানে পাকুড়ে গাছের অর্থাৎ ছেলের বাবা ছিলেন দয়াল চন্দ্র রায় ও বট গাছের অর্থাৎ মেয়ের বাবা ছিলেন প্রভাত চন্দ্র রায়। এই বিয়েতে প্রধান পুরোহিত ছিলেন জয়ন্ত ব্যানার্জি।

এদিকে জাঁকজমকপূর্ণ ব্যাতিক্রম এ বিয়ে দুটি দেখার জন্য আশপাশের লোকজনসহ হাজারো মানুষ ভিড় জমায়।

আয়োজকরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অমঙ্গল থেকে রক্ষা করার বিশ্বাস থেকে বট পাকুড়ের বিয়ে। অর্থাৎ অশ্বত্থ বৃক্ষ বটেশ্বরী-পাকুড়েশ্বর প্রতিষ্ঠা করা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই শহীদদের স্মরণে আজ সভায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২ হাজার ৬৪৫

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘শার্ল দ্য গল’ ফিরিয়ে নিল ফ্রান্স

হেরেও বাজিগর, মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোয় উঠলেও বিশ্বকাপে নতুন রূপকথা কেপ ভার্দের

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

খামেনির জানাজা বয়কট করতে বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে হারল কেপ ভার্দে

মেসির কর্নারে রোমেরোর হেড, অতিরিক্ত সময়ে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

১০

আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে আবারও সমতায় কেপ ভার্দে

১১

লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবারও এগিয়ে আর্জেন্টিনা

১২

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

১৩

পৃথিবীকে চমকে দিয়ে সমতায় ফিরল কেপ ভার্দে

১৪

কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে নতুন যে রেকর্ড গড়লেন মেসি

১৫

মেসির গোলে কেপ ভার্দের বিপক্ষে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

১৬

প্রথমবার নকআউটে নেমেই বাজিমাত, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মিসর

১৭

দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশি: এমপি তাহসিনা রুশদীর

১৮

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

১৯

অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে প্রথমবার শেষ ষোলোতে মিসর

২০
X