বিকাশ চন্দ্র প্রামানিক, নওগাঁ
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৪, ১১:১০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সরকারের গুদামে এক কেজি ধানও দেননি রাণীনগরের কৃষকরা

ধানের পুরোনো ছবি : সংগৃহীত
ধানের পুরোনো ছবি : সংগৃহীত

সরকার ধান-চাল কেনার জন্য সারা দেশে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। পাশাপাশি স্ব স্ব খাদ্য গুদামে দেওয়া হয় লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু কোনো কোনো জায়গায় ভেস্তে যায় সরকারের সেই উদ্দেশ্য। নওগাঁর এক উপজেলায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যে এক কেজি ধান সংগ্রহ করতে না পারলেও চালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এমনই ঘটনা ঘটেছে রাণীনগরে সরকারি খাদ্যগুদামে।

শেষ হওয়া আমন মৌসুমে সেই গুদামে এক কেজি ধানও দেয়নি উপজেলার কোনো কৃষক। এতে করে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা শূন্য। তবে মিলাররা চাল দিয়েছেন গুদামে।

উপজেলা খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শেষ হওয়া আমন মৌসুমে রাণীনগর উপজেলায় সরকারিভাবে ৩০ টাকা কেজিতে ধানের দাম ঠিক করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ৭৬০ টন। কিন্তু মৌসুম শেষ হলেও এক কেজি ধান সরকারের গুদামে দেয়নি উপজেলার কোনো কৃষক। অপরদিকে সরকারিভাবে ৪৪ টাকা কেজিতে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ১৩৮৩ টন; যার পুরোটাই অর্জিত হয়েছে।

উপজেলার সিঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান দেওয়া বড়ই ঝামেলা। গুদামে ধান নিয়ে গেলে তাপমাত্রা দেখে, ধান শুকানো ভালো না মন্দ হয়েছে অর্থাৎ সমস্যার শেষ থাকে না। ধান দেওয়ার পর আবার সেই টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে টাকা নিতে হয়। এতে করে সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনিভাবে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থাৎ গুদামে ধান দিলে হয়রানির শেষ নেই। এ ছাড়া সরকার তো মোটা ধানের জন্য দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু আমরা বেশির ভাগ জমিতে চাষ করি চিকন ধান। অথচ খোলাবাজারে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বেশি দামে ধান বিক্রি করে নগদ টাকা পাই। তাই গুদামে ধান দেই না।’

উপজেলার মেসার্স মায়ের দোয়া চাল কলের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘লাইসেন্স বাঁচাতে আমরা মিলাররা বাধ্য হচ্ছি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে। তাই প্রতি মৌসুমে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ধান কিনে তা চাল করে লোকসান দিয়ে সরকারের গুদামে চাল দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে আমরা ছোট ছোট মিলাররাই লোকসান দিয়ে সরকারের ঘরে চাল দিয়ে সংকট থেকে সরকারকে রক্ষা করে আসছি। অথচ সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে বড় বড় অটোমিল মালিকরা। আজ লোকসান দিতে দিতে উপজেলার শতাধিক ছোট ছোট চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মিল মালিকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে। তবুও আমাদের প্রতি সরকারের কোনো সুদৃষ্টি নেই।’

তিনি বলেন, কিছু একটা করতে হবে তাই আমরা হাতে গোনা কয়েকজন মিল মালিকরা আজও ব্যবসাটাকে ধরে রেখেছি। এই রকম লোকসান চলতে থাকলে এক সময় সরকারের গুদামে কেউ আর চাল দেবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতি মৌসুমে গুদামে ধান দেওয়ার জন্য কৃষকদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। অপরদিকে উপজেলায় দিন দিন মোটা ধানের চাষ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া খোলা বাজারে কৃষকরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে নগদ টাকায় ধান বিক্রি করতে পারছেন। এ কারণে কৃষকরা গুদাম বিমুখ।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আগামীতে যেন এমন আর না হয়; সেই বিষয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে কৃষকদের গুদামে ধান দিতে উদ্বুদ্ধ করার কর্মসূচি গ্রহণ করব।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুরের ওপর হামলার বিষয়ে জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট 

জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে যোগ দিতে বাধা

এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষ

নিয়ম পরিবর্তন করে নির্বাচন দেন, আপত্তি থাকবে না : হাসনাত

তিন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ

নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে নুরের, মেডিকেল বোর্ড গঠন

মানুষ ঘুমের মধ্যে কেন হাসে, কী করণীয়

জাপার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান

শাহ পরাণের মাজারে শিরনি বন্ধ হবে, দরবার ভাঙবে : মেঘমল্লার বসু

১০

বাড়ি বেচে দিলেন সোনু সুদ

১১

বাইচের নৌকা ডুবে নিহত ২

১২

মার্কিন আদালতে ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষিত

১৩

বায়ুদূষণে চ্যাম্পিয়ন কামপালা, ঢাকার অবস্থান কত

১৪

সব সময় ক্লান্ত লাগার ৫ সাধারণ কারণ

১৫

পরীক্ষামূলকভাবে আজ শুরু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল

১৬

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক

১৭

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

১৮

সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ আজ

১৯

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরছেন কঙ্গনা

২০
X