

গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোর থেকে চালানো হামলায় তারা নিহত হন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। এ ছাড়া এ হামলায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ আল জাজিরাকে জানান, যে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়, সেটিতে থাকা ফটোসাংবাদিকরা মিশরের ইজিপশিয়ান কমিটি ফর গাজা রিলিফের হয়ে কাজ করছিলেন। সংস্থাটি গাজায় মিশরের ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করে।
নিহত সাংবাদিকরা হলেন আনাস ঘুনাইম, আবদুল রউফ শাআথ ও মোহাম্মদ কেশতা। তারা মধ্য গাজার তথাকথিত নেতজারিম করিডরের কাছে পরিস্থিতি তদারকি করছিলেন। এমন সময় ইসরায়েলি হামলার শিকার হন বলে সহকর্মী ও চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে। ওই হামলায় আরও একজন নিহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে তাদের গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ধোঁয়া উঠছে।
ইজিপশিয়ান কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ মানসুর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, নিহত সাংবাদিকরা একটি নতুন বাস্তুচ্যুতি শিবিরের চিত্র ধারণ করছিলেন। হামলাটি ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ঘটে। হামলার শিকার গাড়িটি ত্রাণ সংস্থার ছিল। এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবগত ছিল।
তবে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও এক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে দাবি করেছে, মধ্য গাজায় একটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই গাড়ির আরোহীরা সেনাবাহিনীর ওপর নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করছিল।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে পৃথক এক হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিহতরা হলেন এক বাবা, তার ছেলে ও পরিবারের আরেক সদস্য।
এছাড়া দক্ষিণ গাজার বানী সুহাইলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরার মাঠ পর্যায়ের একটি দল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, শিশুটি জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিল। এ ছাড়াও খান ইউনিসের কাছে পৃথক এক ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এক নারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। গাজার উত্তরে আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা সংবাদ সংস্থা।
মন্তব্য করুন