মো. মহি উদ্দিন, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০১:৪১ পিএম
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হাকালুকিতে বিল সেচে মাছ আহরণের হিড়িক, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

হাকালুকি হাওরের জলমহাল সেচে চলছে মাছ আহরণ। ছবি : কালবেলা 
হাকালুকি হাওরের জলমহাল সেচে চলছে মাছ আহরণ। ছবি : কালবেলা 

হাকালুকি হাওরের জলমহাল ইজারা নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন বিলের পাড়ে মেশিন বসিয়ে বিল শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছে কতিপয় ইজারাদার। বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের হিড়িক পড়লেও প্রশাসন যেন নির্বিকার। এতে দ্রুত মাছের প্রজাতি বিলুপ্তি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। অবাধে বিল সেচে মাছ আহরণকারী ইজারাদারই ঘুরেফিরে পুনরায় জলমহাল ইজারা পাচ্ছে। এতে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে নিধন চালাচ্ছে হাওরের মৎস্য সম্পদের, জলজ উদ্ভিদের ও জীববৈচিত্র্যের।

জানা গেছে, হাকালুকি হাওরে প্রায় পৌনে ৩শ’ জলমহাল রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। অভয়াশ্রম ব্যতীত বিলগুলো উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয় পর্যায়ক্রমে লিজ দিয়ে থাকে। মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ব্যবহার করে জলমহাল ইজারা নিয়ে থাকেন। এসব প্রভাবশালীদের অনেকেই অধিক লাভের আশায় ইজারা শর্তভঙ্গ করে জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণ করেন। এতে দিন দিন দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে জলজ উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাকালুকি হাওরপাড়ের ঝগড়ি গ্রামে প্রায় ৩৬ একর আয়তনের শিয়ালী ঝগড়ি বিলের পাড়ে দুটি মেশিন বসিয়ে বিল সেচ দিচ্ছে ইজারাদারের লোকজন। বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের কারণে বিলে থাকবে না কোনো মা মাছ। এর আগে কাত্তিজাউরি বিল শুকিয়ে মাছ আহরণ করেছে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার। এতে মাছের বংশ ধ্বংসের পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদও ধংস হচ্ছে। শিয়ালী ঝগড়ি বিলে দুইটি বড় আকারের পানির পাম্পে পানি সেচের কাজ চলতে দেখা গেছে। বিলের প্রায় ৭৫ ভাগ অংশ শুকিয়ে গেছে।

পানি সেচের কাজে থাকা লোকজন জানান, এই বিলটি ইজারা নিয়েছে উজানভাটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এর সভাপতি আব্দুল শুক্কুর, একরাম আলী ও সাহাব উদ্দিন তাদেরকে পানি সেচের কাজে লাগিয়েছেন। হাওরের আরও কয়েকটি জলমহাল সেচে মাছ আহরণ করতে দেখা গেছে।

বড়লেখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণের কোনো নিয়ম নেই। ইজারা শর্তভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট ইজাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা, সফর সংক্ষিপ্ত করে আজই দেশে ফিরছেন স্পিকার

অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

দুর্যোগ তহবিল আটকে দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

সকালের মধ্যেই ঢাকাসহ ১০ জেলায় হতে পারে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি

ইইউসহ ৬০ বাণিজ্য দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: সিসিক প্রশাসক

সিলেটে বিপৎসীমার কাছাকাছি নদ-নদীর পানি, আতঙ্কে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা

রোড রোলার প্রশিক্ষণে সুইডেন সফরের খবর ভিত্তিহীন: চসিক মেয়র

ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ফের আদালত চত্বরে হামলার চেষ্টা

১০

তদন্ত চলাকালেই বদলি চসিকের আলোচিত সেই প্রকৌশলী দম্পতি

১১

রাতে স্টেডিয়ামে গাঁজা সেবন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে যুবকের কারাদণ্ড

১২

পরশুরামে শিক্ষিকার ফ্ল্যাট থেকে কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৩

বিডার উদ্যোগে বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ

১৪

কমনওয়েলথ গেমসে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা

১৫

রেল অবরোধে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, দুঃখ প্রকাশ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

১৬

১২ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

১৭

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে চালকরা

১৮

জোড়াতালি দিয়ে চলছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা

১৯

চকরিয়ায় বন্যায় সড়ক বিধ্বস্ত, ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকা

২০
X