যশোরের মনিরামপুরে মেশকাদ আলী নামে এক শ্রমিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহীন হোসেনকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও চেতনানাশক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ মে) দুপুরে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রূপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত শাহীন হোসেন সাতক্ষীরার সদরের ঝাউডাঙ্গা গ্রামের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়ার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের ছেলে।
রোববার (১২ মে) বিকেলে যশোরের শংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত মেশকাদ আলী পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি যশোরের একটি অটো রাইস মিলের শ্রমিক ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (২ মে) ভোরে মেশকাদকে হত্যা করে মনিরামপুরের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এরশাদ আলম মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
ডিবির (উপপরিদর্শক) মফিজুর ইসলাম বলেন, দুই লাখ টাকার চুক্তিতে মেশকাদের পরকীয়া নাজমা বেগমের পরিকল্পনায় রিক্তার মাধ্যমে শাহীন শ্রমিক মেশকাদকে হত্যা করেন। মূলত শাহীন একজন ভাড়াটিয়া কিলার। তিনি মুড়লির সোহেল হত্যা ও রাজগঞ্জ এলাকার রাসেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
উল্লেখ্য, মেশকাদ যশোর পদ্মবিলায় ইলা অটোরাইস মিলের শ্রমিক ছিলেন। মিলের আরেক কর্মচারীর নাজমার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক হয়। নাজমা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নৈকাটি গ্রামের বাসিন্দা। নাজমা বর্তমানে সৌদিপ্রবাসী। মেসকাদের স্ত্রী জুলেখা পরকীয়ার কথা জানতে পেরে প্রেমিকা নাজমাকে মোবাইলে গালমন্দ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজমা বিদেশ থেকে মেসকাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী রিক্তা পারভীনের সঙ্গে ২ লাখ টাকা চুক্তি করে। রিক্তা ও শাহীন মিলে কৌশলে সাতক্ষীরা আশাশুনি বুধহাটায় ডেকে নিয়ে পথিমধ্যে মেশকাদকে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যা করে লাশ মনিরামপুরের একটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।
মন্তব্য করুন