কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনাকে নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক বিচারপতি সিনহা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে আমার শেষ দিনগুলো ছিল খুবই ভয়ংকর, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা কেবল উপলব্ধি করা যায়। আমি প্রধান বিচারপতি ছিলাম, সেই আমাকেই গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমাকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। আমার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। আমার বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বাহিনী পাহারা বসায়। আমার একজন স্টাফ বাসায় ঢুকতে গেলে তাকে পেটানো হয়।

ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান সাইফুল আবেদীন মধ্য রাতে আমাকে বিরক্ত করতেন এবং পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার জন্য চাপ দিতেন।

এভাবেই নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার বা এস কে সিনহা।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে দেশে ফিরতে প্রস্তুত আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সাত বছর আগে জোর করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল আমাকে। বর্তমান সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি দেশে ফিরে আসতে চান। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়ার পর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পদ ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও নজিরবিহীন পরিস্থিতির মধ্যে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৮১ দিন আগেই তার কার্যকাল শেষ হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসা বিচারপতি সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসেই ২০১৮ সালে একটি বই প্রকাশ করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, তাকে ‘পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে’ পাঠানো হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট বিদেশ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে দৈনিক ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনহা বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চান। এখন তিনি গ্রিন সিগনালের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ার পর নিম্ন আদালত যাতে বড় বড় চোরাকারবারি ও দুর্নীতিবাজদের জামিন দিতে না পারে সেজন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

বিচারপতি সিনহা বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে শেখ হাসিনা, বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে বৈঠকের জন্য বঙ্গভবনে ডেকে পাঠান। বৈঠকে শেখ হাসিনা তাকে পরদিন সরকারের পক্ষে রায় দিতে বললেও তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সিনহা আরও বলেন, একপর্যায়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা চরমে ওঠে এবং শেখ হাসিনাকে তিনি বলেছিলেন এখনই পদত্যাগ করবেন। তখন শেখ হাসিনা তাকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি পদত্যাগ করলে জনগণ এটা ভালোভাবে নেবে না।

তিনি বলেন, আমি একদিন অফিসে কাজ শেষ করেছেন মাত্র। ঠিক তখনই ডিজিএফআই প্রধান তার অফিসে গিয়ে তাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাকে পাঠিয়েছেন এবং আপনাকে পদত্যাগ করতে এবং দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। তখন এসকে সিনহা চিৎকার করে বলেন, ‘আপনি কে এবং আপনি এসব কী বলছেন? ডিজিএফআই প্রধান বলেন, তারা শুধু প্রধানমন্ত্রীর আদেশ বাস্তবায়ন করেন, আইনমন্ত্রী বা অ্যাটর্নি জেনারেলের নয়। এরপর থেকে তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শীতে হাড়ের ব্যথা! কেন এবং কী করবেন

স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন যুবদল নেতা

ব্যর্থতার পর পুরো গ্যাবন দলকে নিষিদ্ধ করল দেশটির সরকার

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই ফুলমনি পেলেন সহায়তা

কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী, কাটবে কখন জানাল আবহাওয়া অফিস

জয়া আহসানের ‘ওসিডি’ আসছে ৬ ফেব্রুয়ারি

রেজিস্ট্রি অফিসে ‘রহস্যজনক’ আগুন, পুড়ল ২০০ বছরের দলিল

রংপুরকে হারিয়ে বিশেষ বোনাস পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

পেশায় ব্যবসায়ী এ্যানি, বছরে আয় যত টাকা

৩ দিনের মধ্যে ব্যানার-পোস্টার সরাবে বিএনপি

১০

সুসংবাদ পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

১১

আজ রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিন, বাদ জুমা দোয়া

১২

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন উসমান খাজা

১৩

সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল

১৪

আ.লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

১৫

শুটিং ফ্লোরে বাড়তি খরচ নিয়ে যা বললেন ভিকি-কৃতি

১৬

উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের এক বিমানবন্দর বন্ধ

১৭

আরও একটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিল সরকার

১৮

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের শিক্ষামন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৯

আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় ১৭ জনের মৃত্যু

২০
X