কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৫১ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অপেক্ষা করুন, আদালতের হাত অনেক লম্বা : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। পুরোনো ছবি
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। পুরোনো ছবি

নিবন্ধন বাতিলের পরও সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। যা আপিল বিভাগের নজরে আনা হলে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন, আদালতের হাত অনেক লম্বা।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) জামায়াতের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে বারবার সময় নেওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিনের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন বার বার সময় নিচ্ছেন। সময় নিয়ে কোর্টে আসেন না কেন। এখানে সময় নেবেন আর অন্য কোর্টে মামলা করবেন তা হতে পারে না। শেষ বারের মত সময় দিচ্ছি। এটা মনে রাখবেন আদালতের হাত অনেক লম্বা।

এরপর আগামী ৬ নভেম্বর এই মামলা শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ।

আইনজীবী জয়নুল আবেদীন তুহিন বলেন, প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার। প্রধান বিচারপতি বলেন, কিসের প্রস্তুতি। যদি কেস না চালান তাহলে বলবেন তাহলে আমরা সেভাবে আদেশ দেব।

জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ৬ জুলাই আবেদন করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। তিনি বলেন, আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। সেই রায় বহাল আছে। কিন্তু রায় বহাল থাকার পরেও জামায়াত সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে। যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লঙ্ঘন। এজন্য শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সভা-সমাবেশ যাতে না করতে পারে সেজন্য নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছি।

তানিয়া আমীর বলেন, গত জুলাই মাসে আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। এরপর চার মাস পেরিয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ বারবার সময় আবেদন করেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। বৃহত্তর বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি। সেই আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। বিচারাধীন এই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী যেন সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে না পারে সেই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়।

তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ অন্যান্য রিটকারী নিবন্ধনবিহীন দল জামায়াতের সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগে এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। রায় বহাল থাকাবস্থায় গত ১০ জুন জামায়াতে ইসলামী ঢাকায় সভা-সমাবেশ করেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের পর দলটির এ ধরনের কর্মসূচি পালন বেআইনি। একইসাথে উচ্চ আদালতের রায়ের লঙ্ঘন। কারণ রায়ে বলা হয়েছে, দল হিসাবে জামায়াতের নিবন্ধন সংবিধান ও গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশের পরিপন্থী। অতএব কোনভাবেই দলটি সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পেতে পারে না। এ ছাড়া নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য। কিন্তু এরপরেও সভা-সমাবেশে দলটির নিবন্ধন দাবি করে বক্তব্য প্রদান আদালত অবমাননার শামিল।

প্রসঙ্গত, ১০ বছর আগে উচ্চ আদালতের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়। ঘোষিত ঐ রায়ের বিরুদ্ধে তখনই আপিল করে দলটি। এখন ওই আপিলটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এটিএম বুথের টাকা লুট, ‘পরকীয়া প্রেমিকাকে’ বিয়ে করতে গিয়ে ধরা

সৌদি আরবে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

২৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০-এ অলআউট বাংলাদেশ

টানা তৃতীয়বার ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক’ স্বীকৃতি অর্জন মেটলাইফ বাংলাদেশের

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে সমাবেশের ঘোষণা

‘কসাই শামীম’ গ্রেপ্তার

হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রূপপুরের বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রযুক্তিমন্ত্রী

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

এ বছরই দেশে ফিরব: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

১০

ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে ১১ জনের মৃত্যু

১১

পলাশের বিপরীতে নজর কাড়লেন জারবীনি

১২

ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড থেকে এখনো কত পেছনে মেসিরা?

১৩

ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম, পিএস বরখাস্ত

১৪

পূবালী ব্যাংকের বরিশাল অঞ্চলের ২য় ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৫

ফরিদপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৪০

১৬

সংসদ সদস্য বাচ্চুকে সর্তক করল জামায়াত 

১৭

নির্বাচনের আগে অডিও ফাঁস নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন জয় চৌধুরী

১৮

দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

১৯

সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী / দেশে চিকিৎসা খরচের ৮০ শতাংশ রোগীর পকেট থেকে যায়

২০
X