বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া নাশকতার মামলায় কারাগারে থাকা হাফসা আক্তারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৬ মার্চ) বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন আহমেদ খান।
এর আগে, নাশকতার মামলায় কারাগারে থাকা মা হাফসা আক্তারের জামিন চাইতে হাইকোর্টে আসে চার বছরের শিশু নুরজাহান নূরী। এরপর থেকেই আলোচনায় আসে ঘটনাটি।
গত ৪ মার্চ বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
সেসময় হাইকোর্ট বলেন, এই মহিলা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন আসামি হিসেবে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, মাই লর্ড সিসিটিভি ফুটেজ আছে, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও আছে। পরে হাইকোর্ট বলেন, তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখব, কাল আনেন।
তবে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কোর্টের একজন বিচারক বেঞ্চের বিচারিক কাজে উপস্থিত না থাকায় আজ বুধবার আবার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
ডিএমপির দাবি, গত ২০ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ককটেল হামলার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর গত ২৬ নভেম্বর শ্যামপুর থানার গ্লাস ফ্যাক্টরির গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফসা আক্তার পুতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে কারাগারে আছেন হাফসা। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি জামিন চেয়ে ৩ মার্চ হাইকোর্টে আবেদন করেন।
দুই শিশুর বাবা আবদুল হামিদ ভূঁইয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুই শিশুর দাদা আবদুল হাই ভূঁইয়া ২৯ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ছেলে হামিদকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে না পেয়ে ছেলের স্ত্রী হাফসাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অথচ হাফসা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
মন্তব্য করুন