কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের ‘র্যাগ’ দিতে কক্ষে ডাকাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ব্যাচ ১৫তম আবর্তনে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হাতাহাতিতে জড়ান। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে হলের ২০৯ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১৫তম আবর্তনের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ২০৯ নম্বর কক্ষে জড়ো হন। এ সময় জুনিয়র ব্যাচকে ডাকা নিয়ে করা আলোচনায় তারা বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এক পক্ষে রয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ চিন্ময়, গোলাম দস্তগীর, হাসিব হাসান, রাজু মিয়াজি ও ফয়সাল। অপর পক্ষে আকাশ রাজ বংশী, সোহাগ চৌধুরী, আশিকুর রহমান ও সাদির আহমেদ।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ফয়সাল সাদিরকে ঘুষি দেন বলে অভিযোগ। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে। এ সময় অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষার্থীরা এসে তাদের থামান। পরে দুই পক্ষকে বিচারের জন্য ৫০৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান পলাশের উপস্থিতিতে ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা তাদের সমঝোতা করে দেন।
২০৯ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সোহাগ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের ২০৯ নম্বর কক্ষে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য ডাকি। কিন্তু তাদের আটকে ১০৯ নম্বর রুমে ১৫তম আবর্তনের হাসিব, ফয়সাল, রাজু, চিন্ময়, দস্তগীর কথা বলতে থাকেন। পরে আমরা তাদের ১০৯ নম্বর কক্ষ থেকে আমাদের রুমে খাওয়ার জন্য ডেকে আনি। খাওয়ার পর আমরা ১৫তম আবর্তনের সবাই মিলে মিটিংয়ে বসি। এ সময় আমাদের ওপর চড়াও হন ফয়সাল, রাজু, চিন্ময়, হাসিব ও দস্তগীর। তর্কের এক পর্যায়ে ফয়সাল সাদিরকে ঘুষি দেন এবং বাকিরাও আমাদের ওপর হামলা করেন।’
অপর পক্ষের শিক্ষার্থী হাসিব হাসান বলেন, ‘আমরা ১০৯ নম্বর কক্ষে ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। এ সময় সাদির, আকাশ ও সোহাগ দরজায় লাথি দিয়ে ঢুকে জুনিয়রদের সামনে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে আমরা মিটিংয়ে খারাপ ব্যবহারের কারণ জানতে চাই। তখন তারা ক্ষীপ্ত হয়ে আমাদের মেরে বের করে দেন।’
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মিহিরলাল ভৌমিক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না। খবর নিয়ে জানাব।’
ঘটনার বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন