কিশোর-কিশোরীদের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বুকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধকে বুকে ধারণ করে পঁচাত্তরের খুনিদের ঘৃণা করবে। তোমার হৃদয়ে থাকবে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ। তোমরা শিক্ষার আলোয়, সুস্বাস্থ্যে বিকশিত হবে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করবে।
সোমবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য ড. মশিউর রহমান। এ আলোচনা সভায় রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন নিয়ে কাজ করা সহস্রাধিক কিশোর-কিশোরী অংশগ্রহণ করে।
অন্যের ধর্ম ও মতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার কথা জানিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, এসো নিজ হাতে এই সুন্দর দেশমাতৃকাকে সাজিয়ে তুলি। আমাদের আগামীর পথ চলা অনিন্দ্য সুন্দরে ভরে উঠুক। তোমাদের জীবন সাফল্যগাথায় ভরে উঠুক এই প্রত্যাশা রইল।’
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব সফল হলে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেত উল্লেখ করে উপাচার্য ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির অধিকারের জায়গায় থেমে থাকেননি। তিনি বিশ্বের সব শোষিতের পক্ষে দাঁড়ালেন। একটি নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলেন। সেটির নাম দিলেন শোষিতের গণতন্ত্র তথা দ্বিতীয় বিপ্লব।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ঘোষিত দ্বিতীয় বিপ্লব যদি সেদিন সফল হতো, তাহলে আজকে শুধু তোমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয়, বাংলাদেশ ৫০ বছরের যাত্রায় পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী এবং মানবিক রাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে অনন্যসাধারণ হয়ে উঠত। সে কারণেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। কেননা তিনি যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা ভাবছিলেন, সেই বিপ্লব বিশ্বের একটি নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির মডেলে পরিণত হতো। আমরা সেখান থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের এই প্রথিতযশা সমাজচিন্তক বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের প্রত্যেককে হত্যা করা হয়েছে। তারা বুক চিতিয়ে সেই হত্যাকে বরণ করে নিয়েছে, আত্মাহুতি দিয়েছে। একমাত্র একটি দেশ সৃষ্টি ছাড়া কোনো চাওয়া-পাওয়া তাঁদের সামনে ছিল না।’
আলোচনা সভায় ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এ ছাড়া আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি।
মন্তব্য করুন