বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পোশাক পরিবর্তনের সময় বিব্রত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন মৌসুমী হামিদও  

মৌসুমী হামিদ। ছবি: সংগৃহীত
মৌসুমী হামিদ। ছবি: সংগৃহীত

কদিন ধরে ছোট পর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের একটি ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শোবিজ অঙ্গন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো পত্রিকা থেকে সিনিয়র সাংবাদিক শফিক আল মামুন চাকরি হারিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শোবিজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঠিক সেই সময়ে এসে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ।

দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শুটিংয়ের একটা ঘটনা শেয়ার করি। প্রায় ৩ বছর আগের কথা পুবাইল শুটিং করছি। বেশ রাত হয়েছে। কিন্তু অনেক কাজ বাকি। সাধারণত আমরা যখন শুটিং করি বিশেষ করে আউটডোর, তখন কাজের চাপ থাকে বেশি এবং শুটিং লোকেশন এবং মেকআপ রুম বা চেঞ্জ রুম বেশ দূরে হয়। বারবার দৌড়াদৌড়ি করে কাপড় পাল্টাতে বেশ কষ্ট হয় এবং সময় ও বেশি লাগে। রাত ১২টা ৩০ প্রায়। আমি যেখানে শুটিং করছিলাম তার পাশেই একটা মাটির ঘর ছিল যে ঘরে লাইটের কিছু জিনিস পত্র রাখা ছিল । পরিচালক আমাকে খুব করে অনুরোধ করলেন বারবার মেকাপ রুমে গিয়ে চেঞ্জ করতে যেই সময় লাগছে সেই সময় টাও নেই, উনি বললেন আমি যদি অনুমতি দেই উনি আমার কাপড়ের ব্যাগটা ওই মাটির ঘরে আনার ব্যবস্থা করবেন ওখানেই চেঞ্জ করতে পারব কি না। আমি বললাম, ঠিক আছে। যদিও সেই ঘরটা মোটেও আরামদায়ক বা সেইফ নয়। তার ওপর দেখি ছিটকানিও নাই দরজায়। আমি বললাম তাহলে কীভাবে হবে ?

মৌসুমী হামিদ বলেন, তখন ক্যামেরায় যিনি ছিলেন উনাকে আমি মামা ডাকতাম উনি বললেন মামু তুমি টেনশন নিও না, আমি আছি বাইরে পাহারা দিচ্ছি। আমি ওনার কথা বিশ্বাস করেও ওই মাটির ঘরে ঢুকি। সব জানালা বন্ধ করে দেই এবং দরজা চাপিয়ে দেই। আমি নিজেও শুনতে পাচ্ছিলাম ওনারা বাইরেই আছে কথাবার্তা বলছে। পরিচালক তখন সেটে বা অন্য কোথাও। শাড়িটা পরা শুরু করি নাই তখনো। কি যেন মনে করে শাড়িটার ভাঁজ খুলে আমি পুরো শাড়িটা ওড়নার মতো কাঁধের উপর রেখে দেই এবং ঠিক তখনি লাইটের একটা ছেলে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে পড়ে। আমি চিৎকার দিয়ে উঠি ‘এই চেইঞ্জ করি’!

তিনি বলেন, খুবই অস্বস্তিকর অবস্থা। ছেলেটা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে বের হয়ে গেল। স্যরি আপু আমি জানতাম না আপনি ছিলেন। তখন প্রচণ্ড রাগ হলো মামার ওপর। চিৎকার দিলাম একটা। আমি শুধুমাত্র সহযোগিতা করার জন্য এমন একটা জায়গায় কাপড় পাল্টাতে রাজি হলাম কারণ আমাকে কথা দেওয়া হয়েছিল বাইরে একজন দায়িত্ব নিয়ে পাহারা দেবে। কিন্তু ছেলেটা উঠান পার হয়ে ঘরে ঢুকে গেল কেউ ওরে বলল না যে ঘরে আমি আছি।

মৌসুমী হামিদ বলেন, আমি যখন ঘরের ভেতর থেকেই চিৎকার করছি ইউনিটের উপর তাদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে তখন সেই মামা ( চিত্রগ্রাহক) বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলেন ‘আরে বাদ দে তো ও তো ঢুকেই বের হইয়া আসছে এইটুকু সময় আর কী দেখছে। ওই ছেলেটাকে উদ্দেশ করে বলল ‘ওই তুই কিছু দেখছোস’? বলে অসভ্যর মতো হাসতে লাগল। ছেলেটা কোনো উত্তর দিল না।

ভয়ংকর সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার শরীরের যত খানি অংশ দেখা গেছে সেটা তেমন কোনো বিষয়ই না। আমি নাকি ওভার রিয়াক্ট করছি। এই কথা শোনার পর আমি বের হয়ে জীবনের সর্বোচ্চ রিয়াক্ট সেদিন করেছি সেটে। আমার কলিগের কাছে আমার ‘সম্ভ্রম’ এতটা তুচ্ছ ? পরিবার ছেড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় যাদের সঙ্গে কাজ করি তারা এই ভাবে তাদের দায়িত্বহীনতা জাস্টিফাই করবে? সেটের বেশির ভাগ মানুষের কাছে মনে হয়েছে দায়িত্ব নেওয়ার পরও নির্লজ্জের মতো ওনার ওই খ্যাঁকখ্যাঁক হাসায় আমি যে রিঅ্যাকশন দিয়েছি সেটা বেশি বেশি ছিল। সবাই তার অ্যাকশনকেই জাস্টিফাই করে গেল। কিন্তু পরিচালক আমার চিৎকার শুনে সেখানে এসে পুরো ঘটনা শুনে ওই চিত্রগ্রাহকে সেট থেকে বের করে দেন এবং উনি নিজেও ভুল বুঝতে পেরে স্যরি বলেন।

মৌসুমী বলেন, আমি পুরো ঘটনা ওনাকে বলে ওনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তোমার পরিবারের কোনো মেয়ে এমন অবস্থায় পড়লে দায়িত্বরত মানুষটা দায়িত্ব পালন না করে উল্টা যদি এমন করে রসায় রসায় হাসত, তারপর প্রচণ্ড অপমান বোধে যদি তোমার নিজের মেয়ে বা বোন বা তোমার বউ যদি রিয়াক্ট করত তুমি কি বলতা তোমার মেয়েকে, মামনি ওভার রিয়াক্ট করতেছো কেন ? আমি বেশি অবাক হয়েছিলাম সেটে ওইদিন ওই চিত্রগ্রাহকের দায়িত্বহীনতা ও অসভ্যতাকে যারা জাস্টিফাই করছিলেন তাদের ওপর এবং আবারও অবাক হয়েছি যারা আয়মান সাদিয়ার ভিডিও দেখে পোস্ট করেছেন “ভিডিওতে তো তেমন কিছুই দেখা যায় নাই’’ তাদের ওপর। যিনি ভিডিওটি পোস্ট করেছেন তার জন্য আমার কিছুই বলার নাই। উনি ভিডিও ডিলিটও করেছেন। আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সর্বনাশ যা হওয়ার তো হয়ে গেছে। ভিডিও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেছে এবং মানুষের ট্রলিং। কারণ আমি ওনাকে যতটুকু চিনি উনি একদমই ক্ষতিকারক মানুষ নন। বেশ বন্ধুসুলভ হাস্যোজ্জ্বল এবং প্রচণ্ড পরোপকারী মানুষ। আমি বিশ্বাস করতে চাই না উনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এমন কাজটা করেছেন। লুকিয়ে বা গোপন ক্যামেরায় তো নয়ই। বরং উনি অনুতপ্তই হয়েছেন বলে আমি মনে করি।

শেষে মৌসুমী বলেছেন, কিন্তু যারা বলছেন “ এই ভিডিওতে তেমন কিছুই দেখা যায় নাই তাদের জন্য প্রশ্ন আছে, এই তেমন কিছুই না দেখা ভিডিওটির কারণে যে পরিমাণ নোংরা , অসভ্যতা, বুলিং, বডি সেইম, রেইপ থ্রেট মেয়েটাকে সহ্য করতে হয়েছে বা এখনো হচ্ছে, সেটা যদি আপনার পরিবারের কোনো মেয়েকে সহ্য করতে হয় , আপনি সেটা দেখার জন্য প্রস্তুত আছেন তো ?

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে

পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসএসসি বিরাশিয়ানের প্রাণবন্ত আয়োজন

যোগ দিবসে কলকাতায় মোদির যোগাসনচর্চা 

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখা, জানেন কি এর রহস্য?

মহশূন্যেও বিশ্বকাপ-জ্বর! স্পেস স্টেশনে ফুটবল সম্ভব?

চমেক হাসপাতালকে রোগীবান্ধব করতে মেয়রের তাগিদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডিজিটাল ডিসকভারি ডে ২০২৬: স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

১০

‘আমার বাবা কোথায়, সে আসছে না কেন?’

১১

হরমুজ প্রণালিতে ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্র টোল নেবে: ট্রাম্প

১২

বিশ্বকাপের পর ফুটবল ছেড়ে মসজিদের ইমাম হবেন মরক্কোর মাজরাউই!

১৩

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে এআই নিয়ে দুই দিনের কর্মশালা

১৪

চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি হেফাজতে এমপির ছেলে

১৫

ডিএমপির ২ ডিসি পদে রদবদল

১৬

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল, তাহিরপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

১৭

হান্নান মাসউদ বসুন, এটা শাহবাগ নয় : ডেপুটি স্পিকার

১৮

মাদকসহ গ্রেপ্তারের ৫ ঘণ্টা পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

১৯

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ‘কান্ডারি চল’, একসঙ্গে ফুয়াদ-পান্থ কানাই-মিলা

২০
X