

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমের বিপদ যেন বেড়েই চলেছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে এবার তার মালিকানাধীন বিপুল স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের (জব্দ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
আদালতের নথিপত্র ও দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়, জব্দের নির্দেশ দেওয়া সম্পদের মধ্যে রাজধানীর পাশাপাশি মানিকগঞ্জের একাধিক দালান ও জমি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার একটি পাঁচতলা ভবন এবং পূর্বাচলে থাকা ৯ কাঠার একটি প্লট। এ ছাড়া নিজ জেলা মানিকগঞ্জ সদরে একটি চারতলা বাড়ি এবং সিংগাইর উপজেলায় দুটি দোতলা বাসভবনও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে সিংগাইরের জয়নগরসহ বিভিন্ন মৌজায় প্রায় ৪২০ শতাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ হয়েছে। তবে মমতাজের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মানিকগঞ্জের একটি দোতলা বাড়িকে আপাতত এই আদেশের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে দুদকের পক্ষে এই জব্দের আবেদনটি পেশ করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, মমতাজ বেগম এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন এসব সম্পদ অন্য কোথাও হস্তান্তর বা বিক্রি করে ফেলার শক্তিশালী আশঙ্কা রয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা জরুরি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৈতৃক বাড়ি বাদে জব্দকৃত এসব স্থাবর সম্পদের দলিলে প্রদর্শিত মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মমতাজ। এরপর থেকে হত্যাচেষ্টা ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন