কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০২:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চলন্ত ট্রেনে ডা. আহসান হাবিবের চেষ্টায় বেঁচে গেলেন রোগী

আবু সাদ চৌধুরী ও ডা. আহসান হাবিব উজির। ছবি : সংগৃহীত
আবু সাদ চৌধুরী ও ডা. আহসান হাবিব উজির। ছবি : সংগৃহীত

চলন্ত ট্রেনে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়া রোগীর জীবন শঙ্কামুক্ত করলেন ডা. আহসান হাবিব উজির। সোমবার (৪ মার্চ) দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী ডাউন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। রোগী আবু সাদ চৌধুরীর (৪০) গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গোপালপুরে, যিনি হৃদরোগ আক্রান্ত ছিলেন।

জানা যায়, সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফথ্যালমোলজির ফেজ-এ রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহসান হাবিব উজির সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস থেকে ট্রেনিং শেষে বিকেল ৫টায় ডাউন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা যাচ্ছিলেন। ট্রেন টাঙ্গাইল আসার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের মাইকে ঘোষণা এলো ‘গ’ বগিতে একজন যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ট্রেনে কোনো ডাক্তার থাকলে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে।

ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিজ দায়িত্বে ‘ড’ বগীর ১০৫ নম্বর সিট থেকে উঠে অতিদ্রুত ‘গ’ বগিতে গিয়ে চলে যান ৪০তম বিসিএসের ডা. আহসান। সেখানে গিয়ে দেখেন রোগী প্রায় সেন্সলেস। প্রচুর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমনকি পালসও পাওয়া যাচ্ছিল না। রোগীর পুরো শরীর ঠান্ডা আর ঘেমে যাচ্ছে। সঙ্গে থাকা রোগীর স্ত্রীর কাছে হিস্ট্রি নিয়ে জানতে পারেন, উনি প্রেশারের রোগী। তবে ওষুধ কন্টিনিউ করেন না।

তখন ডা. আহসান উপস্থিত ট্রেনের গার্ডকে জিজ্ঞেস করেন, কোনো ডায়াবেটিস মাপার মেশিন বা প্রেশার মাপার মেশিন আছে কি না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ট্রেনে তা ছিল না। এরপর ইমারজেন্সি মেডিকেল বক্স চাইলেও দিতে পারেননি ট্রেনের গার্ড। এদিকে রোগীর শরীর আরও ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। হৃদরোগীকে বাঁচাতে অতি জরুরি সিপিআর দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেন ডা. আহসান। এমন সময় একজন যাত্রী সঙ্গে থাকা লাইফ সেভিং নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে, নিডোকার্ড আর ক্লপিডোগ্রেল, এস্পিরিন দিয়ে সহায়তা করেন। তখন চারটা ট্যাবলেট একসাথে লোডিং ডোজে দিয়ে আর নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই রোগীর সিম্পটম উন্নতি হতে থাকে।

ডা. আহসান আরও জানান, এরপর গার্ড সাহেবকে বললাম, ট্রেন সামনের স্টেশন মির্জাপুরে ব্রেক দিতে। যাতে রোগীকে কুমুদিনী মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া যায়। কারণ খুবই ইমারজেন্সি পেশেন্ট। যদিও ট্রেনের নির্ধারিত বিরতি মির্জাপুর ছিল না তবুও তিনি তৎক্ষনাৎ তা ম্যানেজ করে ফেললেন। ট্রেন মির্জাপুর আসার পর রিকশা করে রোগীকে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায় রোগীর হাই ট্রপোনিন আই। অর্থাৎ রোগী তখন হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন।

ডা. আহসান বলেন, রোগী মৃত্যুপথযাত্রী ছিলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় বেঁচে গিয়েছেন। মৃত্যু না হলেও আরও অনেক শঙ্কা ছিল। যেমন- ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া, এরিদমিয়া ইত্যাদি। এ কারণে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে ইমারজেন্সি মেডিকেল বক্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ট্রেনে রাখার পরামর্শ তার। এ ছাড়া ট্রেনে এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম এবং খাবার ঘরের মতো মেডিকেল কক্ষ থাকা জরুরি বলে মনে করেন ডা. আহসান হাবিব উজির।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মারা গেলেন আওয়ামী লীগের এক নেতা

লেবাননে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত

৩০ জুন / কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে রায় আজ

ডাচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় মরক্কো

শপথ নিতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া রিফাইনারিতে ভয়াবহ আগুন, আহত ১৫

গোপালগঞ্জে ৭ বছরেও শেষ হয়নি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ

ব্রাজিল কোন কৌশলে জাপানকে হারাল, জানালেন আনচেলত্তি

১০

ঘুমন্ত স্বামীকে বিশেষ কায়দায় হত্যার পর মাটিচাপা দেন স্ত্রী

১১

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে ডানপন্থি, বাগড়া বামপন্থিদের

১২

আজকের স্বর্ণের বাজারদর

১৩

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক

১৪

চোখ উপড়ানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

১৫

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে ইরান, বললেন পেজেশকিয়ান

১৬

রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ

১৭

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৭১৯

১৮

ব্রাজিলের জয়ে অনন্য রেকর্ড ক্যাসেমিরোর

১৯

বিশ্বকাপে মহা অঘটন, ৪৪ বছরের ইতিহাস ভেঙে জার্মানির বিদায়

২০
X