কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫, ০৯:৪১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মাকে ভালোবাসি বলার দিন আজ 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর তিন ভুবনে নাই। কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘মা’কবিতাটি ছোটবেলায় আমরা সবাই পড়েছি। হ্যাঁ মা শব্দের অতলে লুকানো থাকে গভীর স্নেহ, মমতা আর পৃথিবীর সবচেয়ে অকৃত্রিম ভালোবাসা।

শৈশব থেকে আনন্দ-বেদনা-ভয় কিংবা উদ্দীপনা- প্রতিটি অনুভূতিতে জড়িয়ে থাকে মায়ের নাম। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সবশেষ আশ্রয়স্থল মা নামের ওই মমতাময়ী নারীর আঁচল। একটু ব্যথা পেলে বা কোনো ঘটনায় অবাক হলে ‘ও মা’ বলার অভ্যাস আমাদের সকলেরই আছে।

তবে আজ মাকে নিয়ে এতো কথা কেনো? কারণ আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস। এ হিসাব অনুযায়ী, আজ রোববার (১২ মে) সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে মা দিবসটি। এই দিনটি মাকে বিশেষভাবে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানানোর দিন।

বিশেষ এই দিবসটি কীভাবে এলো তা হয়তো অনেকেরই অজানা। ইতিহাস বলছে, অনেক পথ পেরিয়ে এই দিবসটি নতুন রূপ পেয়েছে। ধারণা করা হয়, মা দিবসের সূচনা প্রাচীন গ্রিসের মাতৃরূপী দেবী সিবেলের এবং প্রাচীন রোমান দেবী জুনোর আরাধনা থেকে।

এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য অনেক আগে থেকেই মায়েদের এবং মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রোববারকে বেছে নিয়েছিলেন। ষোড়শ শতকে এটি ইংল্যান্ডে মাদারিং সানডে বলে পরিচিতি লাভ করে। অনেকেই ক্যাথলিক পঞ্জিকা অনুযায়ী এটিকে লেতারে সানডে যা লেন্টের সময়ে চতুর্থ রোববারে পালন করতে শুরু করে।

তবে ইতিহাস বিদদের মতে, জুলিয়া ওয়ার্ড হোই রচিত ‘মাদার্স ডে প্রক্লামেশন’ বা ‘মা দিবসের ঘোষণাপত্র’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের গোড়ার দিকের প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পৈশাচিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস।

এ সময় তারা জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আনা রিভিজ জার্ভিস ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান।

মায়ের মৃত্যুর পর আনা মেরি জার্ভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার আন্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালন হয়।

এরপর ১৯১২ সালে এই দিবসটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচার শুরু হয়। এই প্রচার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, মেক্সিকো, চীন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায়।

এই প্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস ও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই প্রতিটি দেশে মায়েদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এই দিনটি উৎসর্গ করা হয়। দেশে দেশে পালন করা হয় বিশ্ব মা দিবস।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্যার পানিতে নৌকাডুবিতে দুই বোনের মৃত্যু

পারিবারিক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় হুমকিতে ২০২৭ সালের তেলের বাজার

চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে যুবক নিহত

আমি চাই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতুক: নেতানিয়াহু

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত

চট্টগ্রামের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা

স্ত্রীর গলা কেটে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

‘জন নায়াগান’ / কঠিন শর্তে মিলল সেন্সরের ছাড়পত্র

হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত সমাধান করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

১০

কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেল

১১

ঢাকায় গাইবেন আতিফ আসলাম, টিকিট বিক্রি শুরু

১২

খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

১৩

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার

১৪

বাড়ছে সুরমা নদীর পানি, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ

১৫

ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৬

প্রকাশের আগেই বৃত্তির ফল ফাঁস, ডিপিই কর্মকর্তা বরখাস্ত

১৭

ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা, সাতক্ষীরায় বিপর্যস্ত জনজীবন

১৮

চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

১৯

দুই দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

২০
X