

কারাগারে দণ্ড ভোগ করা মানেই সব সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে জেলে থাকা নয়। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কোনো বন্দিকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই সুযোগকেই বলা হয় প্যারোল।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মানবিক ও সামাজিক বিবেচনায় প্যারোলের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্যারোল কী
প্যারোল হলো কারাদণ্ড ভোগরত কোনো বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া। এই সময়ে বন্দি পুরোপুরি মুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন না। তাকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হয়। প্যারোল মূলত শাস্তি কমানো নয়, বরং শাস্তি ভোগের মধ্যেই সীমিত সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ।
কেন প্যারোল দেওয়া হয়
প্যারোল দেওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর অসুস্থতা, নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু, পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা বিশেষ সামাজিক কারণ। অনেক ক্ষেত্রে বন্দির আচরণ ভালো হলে এবং সে সংশোধনের পথে আছে বলে মনে হলে প্যারোল বিবেচনায় আনা হয়।
কারা প্যারোল পেতে পারেন
সব বন্দিই প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নন। সাধারণত যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয় সেগুলো হলো-
- বন্দির অপরাধের ধরন
- কারাদণ্ডের মেয়াদ ও ইতোমধ্যে কতদিন দণ্ড ভোগ করেছেন
- কারাগারে তার আচরণ ও শৃঙ্খলা
- সমাজে ফিরে গিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না
গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের ক্ষেত্রে প্যারোল দেওয়া অনেক সময় কঠোরভাবে সীমিত থাকে।
প্যারোল পাওয়ার প্রক্রিয়া
প্যারোল পাওয়ার জন্য সাধারণত বন্দি বা তার পরিবারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদনটি যাচাই করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সব দিক বিবেচনা করে যদি আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।
প্যারোলের শর্ত
- প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দিকে কিছু শর্ত মানতে হয়। যেমন-
- নির্দিষ্ট ঠিকানায় অবস্থান করা
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার কারাগারে ফিরে যাওয়া
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটানো
শর্ত ভঙ্গ করলে প্যারোল বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্যারোল পাওয়ার সুযোগও কমে যায়।
প্যারোল আর জামিন কি এক
প্যারোল ও জামিন এক বিষয় নয়। জামিন সাধারণত মামলার বিচার চলাকালীন সময়ের জন্য দেওয়া হয়। আর প্যারোল দেওয়া হয় দণ্ড ঘোষণার পর, যখন বন্দি ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করছেন।
প্যারোল হলো কারাবন্দিদের জন্য একটি মানবিক আইনি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে এটি কোনো অধিকার নয়, বরং কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। আইন, শর্ত ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই প্যারোল দেওয়া হয়।
সঠিক নিয়ম মেনে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে প্যারোল ব্যবস্থা সমাজ ও বন্দি উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন