

মাথায় আঘাত হঠাৎ করেই পেতে পারেন। খেলাধুলা করতে গিয়ে, সিঁড়ি থেকে পড়ে, সড়ক দুর্ঘটনায় বা বাসার ভেতরে চলাফেরার সময় ধাক্কা খেলেও মাথায় আঘাত লাগতে পারে। অনেক সময় আঘাতটা তেমন গুরুতর মনে না হলেও ভেতরে ভেতরে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই মাথায় আঘাতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
মাথায় আঘাত লাগলে মাথার চামড়া কেটে যেতে পারে, খুলিতে ধাক্কা লাগতে পারে বা মস্তিষ্কে ঝাঁকুনি লাগতে পারে। এতে কনকাশন বা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি বা টিবিআই হতে পারে। আঘাত ছোট হোক বা বড়, শুরুতেই সঠিক পদক্ষেপ নিলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
মাথায় আঘাত পেলে সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা যায় সেগুলো হলো মাথার চামড়ায় কাটা বা ছেঁড়া, খুলির বা মুখের হাড়ে ফাটল, মাথায় ফোলা বা কালশিটে দাগ, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং কনকাশন।
টিবিআই হালকা, মাঝারি কিংবা মারাত্মক হতে পারে। তবে যে কোনো মাত্রার আঘাতের পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের সবচেয়ে বড় কারণ হলো পড়ে যাওয়া। এর পর রয়েছে মাথায় সরাসরি আঘাত লাগা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং মারামারি বা হামলার ঘটনা। শিশু এবং বয়স্ক মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তাদের পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
মাথায় কেটে গেলে বা আঘাত পেলে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। মাথায় রক্তনালি বেশি থাকায় সামান্য কাটা জায়গা থেকেও অনেক রক্ত পড়তে পারে। তবে ভয় না পেয়ে ধাপে ধাপে কাজ করা জরুরি।
প্রথমে আঘাতের জায়গাটা খুঁজে বের করুন এবং কাটা বা আঘাত কতটা গভীর তা বোঝার চেষ্টা করুন। যদি ছোট কাটা হয়, তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে জায়গাটা শক্ত করে চেপে ধরুন। অন্তত ১৫ মিনিট চাপ দিয়ে ধরে রাখুন। রক্তে কাপড় ভিজে গেলে সেটি খুলবেন না, তার ওপর আরেকটি গজ রেখে আবার চাপ দিন।
নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যান
- মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- চোখে ঝাপসা দেখা বা শরীর দুর্বল লাগা
- রক্তপাত বন্ধ না হওয়া
মনে রাখতে হবে, রক্ত না পড়লেও হালকা ধাক্কা থেকে কনকাশন হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
মাথায় আঘাতের পর মদপান করবেন না। কোনো খেলাধুলা বা ভারী কসরত করবেন না। গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ভারী কাজ না করাই ভালো। মাথা ঘোরালে, বিভ্রান্ত লাগলে বা কথা জড়িয়ে গেলে দ্রুত বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসা নিন।
আঘাতের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিশ্রামে থাকুন এবং সম্ভব হলে একজন সচেতন মানুষকে পাশে রাখুন। মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দিন।
কনকাশন হলে বিভ্রান্তি, মনোযোগে সমস্যা, মাথাব্যথা, স্মৃতি ভুলে যাওয়া, ভারসাম্য হারানো, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। চোখে ঝাপসা দেখা, কানে বাজা কিংবা আলো ও শব্দে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
মাথায় আঘাতের ক্ষেত্রে বাইরে দেখে সবসময় বোঝা যায় না ভেতরে কী হয়েছে। অনেক সময় সিটি স্ক্যান বা এক্স-রে করে জানতে হয় খুলিতে ফাটল বা মস্তিষ্কে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। তাই দেরি না করে কাছের হাসপাতাল বা ইমার্জেন্সি বিভাগে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
মাথায় আঘাত পেলে অবহেলা নয়, সচেতন হওয়াই জীবন বাঁচাতে পারে। সাবধানে থাকুন, নিজের ও প্রিয়জনের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন।
সূত্র: দ্য আর্জেন্সি রুম
মন্তব্য করুন