কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১১ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘে ড. ইউনূস

বুলেটের সামনে বুক পেতেছিল বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও বীরত্বের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন তার বক্তব্যে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বুলেটের সামনে বুক পেতেছিল ছাত্র-জনতা। আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে। বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের এই তরুণরা। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার হয়েছিল আমাদের তরুণীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে শুক্রবার (সেপ্টেম্বর ২৭) এ ভাষণ দেন ড. ইউনূস।

জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্বসম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি মন্তব্য করে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণ সমাজের, অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্কচিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি। আমাদের মায়েরা, দিনমজুররা ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। তপ্ত রোদ, বৃষ্টি, মৃত্যুভয়কে তোয়াক্কা না করে তারা সত্য ও ন্যায়সঙ্গত আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকালব্যাপী রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনা করার অশুভ ষড়যন্ত্রকে পরাভূত করেছিল।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানা মতে, প্রায় আটশরও বেশি জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।

আমাদের ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছিল উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, পর্যায়ক্রমে তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারাপৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

ড. ইউনূস বলেন, এই গণআন্দোলন রাজনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের সুবিধা বঞ্চিত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারিত্ব চেয়েছিল। আমাদের জনগণ একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবন উৎসর্গ করেছিল।

আমাদের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুল জায়গায় স্বাক্ষরে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

সবাইকে শাহবাগ আসার আহ্বান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

সেন্ট ফিলিপস্ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্ল্যাটিনাম জুবিলী উদযাপন

বাংলাদেশের কি বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন করা উচিত?

সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

জিবি না দেওয়ায় অটোচালককে মেরে নাক ফাটাল যুবক

মানিকগঞ্জ জেলার ওনার্স গ্রুপের সভাপতি লিটন ও সম্পাদক বাবুল

মাচাদোকে ক্ষমতায় বসাতে চান ট্রাম্প

এবারের নির্বাচন হবে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত ও প্রশংসিত : সালাহউদ্দিন আহমদ

কান উৎসবের লক্ষ্যে আলি জুলফিকার জাহেদীর ‘রক্তছায়া’

১০

ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

১১

৭০০ কৃষকের নামে মামলা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

১২

সেই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়া জানাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

১৩

সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিকসহ দুই পর্যটককে অপহরণ

১৪

ঐক্য ও উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য : ফরিদুল ইসলাম

১৫

মাদুরোকে কোথায় নেওয়া হবে জানালেন ট্রাম্প

১৬

‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-এর পর আবারও বলিউডে প্রান্তিকা

১৭

শীত নিয়ে আবার দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

১৮

তথ্য পাচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ডিনকে ছুটি

১৯

দেশের জনসংখ্যা বিবেচনায় স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে : সালাহউদ্দিন

২০
X