কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সঠিক প্রস্তুতিতে ভূমিকম্পের ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব

‘ভূমিকম্প সচেতনতা, নিরাপত্তা প্রোটোকল ও জরুরি প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা। ছবি : কালবেলা
‘ভূমিকম্প সচেতনতা, নিরাপত্তা প্রোটোকল ও জরুরি প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা। ছবি : কালবেলা

সময়মত সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে বড় ধরনের ভূমিকম্পেও ক্ষতি ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মতামত দিয়েছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ‘ভূমিকম্প সচেতনতা, নিরাপত্তা প্রোটোকল ও জরুরি প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব মত প্রকাশ করেন। সেমিনারটি আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় অনুভূত একাধিক ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং দুর্বল ভবন কাঠামোর কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটলে বিপর্যয় ভয়াবহ হতে পারে। তাই সচেতনতা, প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এই তিনটি স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই আমরা ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারব। সময় খুবই কম; আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য নির্মাণে জেসিএক্স স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা প্রথম- নীতিতে বিশ্বাসী।

সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী প্রফেসর ড. এম. শামীম জেড. বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন (বুয়েট), রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডির পরিচালক মমিনুল ইসলাম, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম ও ভিস্তারার এমডি মুস্তফা খালিদ পলাশ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ- মি. কেইইচিরো সাকো (প্রতিষ্ঠাতা, সাকো আর্কিটেক্টস) এবং মি. হিসায়া সুগিয়ামা (প্রিন্সিপাল, ভেরিটাস জাপান এলএলসি)। তারা জাপানের ভূমিকম্প-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, নিরাপদ অবকাঠামো নকশা এবং আধুনিক টেকসই নির্মাণমান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।

বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল অডিট, কাজের মান কঠোরভাবে তদারকি, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল, সচেতনতা কার্যক্রম এবং পরিবারভিত্তিক জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারে দেশি–বিদেশি ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সরকারি–বেসরকারি সব পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

সঠিক প্রস্তুতিই বড় ধরনের ধস, ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানোর একমাত্র উপায়। ভূমিকম্পের ক্ষতি ও প্রাণহানি কমাতে বক্তারা জরুরি করণীয় তুলে ধরেন— বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন, পুরোনো ভবনের রেট্রোফিটিং, অন্তত ৫০টি নতুন আধুনিক সিসমিক স্টেশন স্থাপন, ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (জিআইএস) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ঝুঁকি মডেলিং, উদ্ধারকারী বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম প্রদান, স্কুল–কলেজ–অফিসে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া বাধ্যতামূলক ও মাটির পরীক্ষা, মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহার এবং রিয়েল এস্টেট খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জাপান নিয়ম মেনে কাজ করে ভূমিকম্প-সহনশীল শহর গড়তে পেরেছে। বাংলাদেশও চাইলে ক্ষতি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বলে বক্তারা একমত হন।

বক্তারা জানান, বাংলাদেশ ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয়—এই তিন সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং–আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে দেশটি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, বিল্ডিং কোড উপেক্ষা এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সেমিনারে উল্লেখ করা হয়- গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা ‘মেগাথার্স্ট ফল্ট’ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০–১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি—যা বিশেষজ্ঞদের মতে ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক সতর্কসংকেত।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

থানা হেফাজতে তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ এসআইর বিরুদ্ধে

আগুনে পুড়ে যাওয়া অসহায় নারীর ঘর করে দেওয়ার অঙ্গীকার নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর

২ সপ্তাহব্যাপী ‘বিজয় মশাল রোড শো’ করবে বিএনপি

হার দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক বাংলাদেশের

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় নফল নামাজ পড়ার আহ্বান জানালেন আশফাক

যশোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবু

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল ছাত্রদলের

সিরাজদীখানে শেখ মো. আব্দুল্লাহর জন্য ভোট চাইলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় 

সঠিক প্রস্তুতিতে ভূমিকম্পের ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব

আলেম সহযোগী নিয়োগ দেবে আস-সুন্নাহ, দ্রুত আবেদন করুন

১০

দিনে কখন ও কয়টি কাঠবাদাম খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার? জানুন

১১

বরিশালে বিএনপির এক কার্যালয়ে আগুন

১২

নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাখন, সম্পাদক পলাশ

১৩

দিনদুপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা

১৪

ছিনতাই হয়ে গেল নায়িকার আইফোন

১৫

পাচারকারীর বাড়ি থেকে কষ্টিপাথরের দুটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

১৬

খালেদা জিয়ার এখন বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থা নেই : মির্জা ফখরুল

১৭

খালেদা জিয়াকে লন্ডনের সেই হাসপাতালে নেওয়া হবে : মাহদী আমিন

১৮

বিইউএইচএসের ফল-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

১৯

ছয় গুণিজন পেলেন লেখক চক্র পুরস্কার

২০
X