কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রাও নেমে এসেছে ৭ ও ৮ ডিগ্রিতে। এমন অবস্থায় দিনে সূর্যের দেখা পাচ্ছে না দেশবাসী। কারণটা হলো ধূসর রঙা ঘন কুয়াশার চাদর। শীতে সময় ঘন কুয়াশার চাদর যেনো প্রতিদিনের ঘটনা।

তবে, কুয়াশা আসলে কী, কীভাবে এবং কেন এটি তৈরি হয়? আর শীতেই কেনো কুয়াশার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়? সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে

চলুন জেনে নেওয়া যাক—কুয়াশা কীভাবে সৃষ্টি হয়?

আবহাওয়াবিদদের মতে, কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তৈরি হওয়া এক ধরনের নিচু মেঘ বা ‘লো ক্লাউড’। কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী। তবে, অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালেই কুয়াশার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলেন, শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় মাটিতে থাকা আর্দ্রতা ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসে এবং বাতাস শিশিরাঙ্কে পৌঁছালে, অর্থাৎ ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নেয়। আর এই জলকণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকলেই কুয়াশা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, দিনে সারফেসে যা তাপমাত্রা আসে, রাতে তা চলে যায়। কোনো কারণে সারফেস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে গেলে, অর্থাৎ উপরের তাপমাত্রার চেয়ে নিচের তাপমাত্রা কম হলে কুয়াশা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অ্যাডভেকশন ফগ দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ হয়ে আসে।

আবার অনেকে মনে করেন কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ একই জিনিস। তবে, কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগ—এই তিনটি শব্দ প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও এগুলো এক নয়।

কুয়াশা, মিস্ট আর স্মগের পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা মূলত এগুলো তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ও দৃশ্যমানতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।

মাটির কাছাকাছি বাতাসে থাকা আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নিলে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কম হলে তাকে কুয়াশা বলা হয়।

মিস্টও একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হলেও এর ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকে। ফলে দৃশ্যমানতা কিছুটা বেশি দেখা যায়। এক কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমানতা থাকলে সেটিকে মিস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস্তবে অনেক সময় মিস্টকে হালকা কুয়াশা হিসেবেই ধরা হয়।

অন্যদিকে স্মগ তৈরির ধরন আলাদা। ‘স্মোক’ (ধোঁয়া) ও ‘ফগ’ (কুয়াশা) শব্দের সমন্বয়ে এসেছে স্মগ। এটি ধোঁয়া ও কুয়াশার মিশ্রণ, যেখানে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর কণা বাতাসে জমে থাকে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ার কারণেই মূলত স্মগ তৈরি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর।

কুয়াশা ও মিস্ট প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা হলেও স্মগ মানুষের সৃষ্ট বায়ুদূষণের ফল।

ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন মতে, কুয়াশা সাধারণত চারপাশকে সাদা পর্দার মতো আচ্ছাদিত করে রাখে, যেখানে দৃশ্যমানতা বেশ কমে যায়। বিপরীতে মিস্ট তুলনামূলকভাবে পাতলা হয় এবং ধূসর রঙের এক ধরনের আবরণ তৈরি করে। তবে কুয়াশার সঙ্গে ধুলো বা ধোঁয়া মিশে গেলে সেটিতে হালকা ভিন্ন রঙের আভাও দেখা যেতে পারে।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কুয়াশা কেন ঠান্ডা বাড়ায় এবং কীভাবে কাটে—

শীতের তীব্র অনুভূতির জন্য আবহাওয়াবিদরা মূলত দীর্ঘস্থায়ী ঘন কুয়াশাকেই দায়ী করেন। কুয়াশা দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে সূর্যের আলো ঠিকভাবে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। ফলে মাটি গরম হয় না এবং দিনের তাপমাত্রা কমে যায়। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও কমে আসে, যার ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। তবে ঘন কুয়াশা কাটতে হলে কিছু নির্দিষ্ট অনুকূল পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ মতে, ওয়েস্টার্লি ডিসটার্বেন্স বা পশ্চিমা লঘুচাপ। এটি পশ্চিম দিক থেকে আসা এক ধরনের আবহাওয়াগত অস্থিরতা, যা শীতকালে উপমহাদেশে ঠান্ডা বাতাস, মেঘ, বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে আনে। এর বর্ধিত অংশ সক্রিয় হলে এবং সেই প্রভাব বাংলাদেশ বা আশপাশের এলাকায় পৌঁছালে বাতাসের গতি বাড়ে।

এ ছাড়াও পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি। এ ধরনের বৃষ্টিপাত কুয়াশা কাটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকও জানিয়েছেন, কুয়াশা কেটে গেলে ঠান্ডার অনুভূতি কমে। আর কুয়াশা কাটার প্রধান উপায় হলো বৃষ্টি হওয়া এবং বাতাসের গতিবেগ বাড়া।

তিনি আরও জানান, বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বঙ্গোপসাগরে একটি উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়া এবং সেইসঙ্গে লোকালাইজড ওয়েস্টার্লি ডিসটার্বেন্সের বর্ধিতাংশ থাকা দরকার।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বজলুর রশিদ বলেন, সাধারণ প্রতি ১২-১৫ দিন অন্তর অন্তর পশ্চিমা লঘুচাপ হয়। আর নিয়মানুযায়ী, শীতে হালকা বৃষ্টি হবে মাঝে মাঝে। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত এখানে কোনও পশ্চিমা লঘুচাপ আসেনি। তাই বাতাসের ময়েশ্চার সরে যেতে পারছে না। আজকে (ছয়ই জানুয়ারি) বাতাস কিছুটা বেড়েছে, তাই ময়েশ্চার কিছুটা কমেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনায় ভয়াবহ দাবানলে বনভূমি পুড়ে ছাই

প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশের কোচ হবেন কি না জানালেন মিকি আর্থার

রোলার চাপায় খেলার বয়সেই থেমে গেল শিশু আজিমের জীবন

জাপা-এনডিএফের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না: হাইকোর্টের রুল

ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহকদের বড় সুখবর দিল বিটিসিএল

আমেরিকানদের খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ

আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতে প্রার্থী মোবিন

কুমিল্লা-২ আসন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসির আবেদন

কর ফাঁকির মামলায় খালাস পেলেন দুলু

১০

সাবেক মেয়র লিটনের ৪১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

১১

পাওনা টাকা সংগ্রহে বাড়ি থেকে বের হন, মরদেহ ধানক্ষেতে

১২

জীবনযাপনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মাথাব্যথার কারণ

১৩

যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প

১৪

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে এখনও অটল বিসিবি

১৫

মাইক্রোবাস চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৬

আজ থেকে নতুন দামে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

১৭

রোড টু ২৬: ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা, কবে কখন ম্যাচ

১৮

আলোচিত সেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

১৯

সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের

২০
X