

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গতকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা নামবেন মাঠের প্রচারে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, যা চলবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রচার চালানো যাবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ।
রাজনৈতিক দলগুলো আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নামছে। দিনের শুরুতেই সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করবে বিএনপি। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটসহ মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার—এই সাত জেলার সমাবেশে যুক্ত থাকবেন।
এদিকে দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী। জনসভায় দলের আমির শফিকুর রহমানের পাশাপাশি ১০–দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই মাঠটি শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা–১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসপি) আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার সমাধি ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবে। এরপর তিন নেতার সমাধি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত প্রচার কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
এ ছাড়া সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করবে সিপিবি। অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি সকাল ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়ায় বাবার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মাথাল প্রতীকের প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইকালে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থীতা ফেরত দেয় কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে কমবেশি ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকলেন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন