কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সিজিএস আয়োজিত নীতি সংলাপ

বৈদেশিক নীতির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যে পৌঁছানোর তাগিদ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় স্বার্থে বৈদেশিক নীতির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ন্যূনতম ঐক্যে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারি ও ধারাবাহিক পররাষ্ট্রনীতির জন্য রাজনৈতিক ঐক্য ও জনগণের সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে এসব বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ঐক্য নেই, যা আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা হয়ে আছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বৈদেশিক নীতি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এ সব কথা বলেন তারা।

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা একটি মাল্টি-পোলার কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে সব প্রধান শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। এর সঙ্গে সরাসরি বিনিয়োগের বিষয়টি জড়িত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যা দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতেও সহায়ক হবে। জনভিত্তি থাকলে যে কোনো সরকারই কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে শক্ত ও কার্যকর অবস্থান নিতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় পরবর্তী সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে রাজনীতিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতায় রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে কূটনীতির গুরুত্ব বেড়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, তিন দিক থেকে ভারতের সীমান্তঘেরা অবস্থান, অভিন্ন নদী ও পরিবেশগত নির্ভরতা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সীমান্ত বিরোধ, অবৈধ বাণিজ্য ও অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যেখানে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং জনগণ ও দেশের স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন। পাশাপাশি উন্নয়নশীল ও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বলেন, শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই জনগণের মধ্যে দৃঢ় জনভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন। যে দেশের জনগণ বা জনভিত্তি দুর্বল, সেই দেশের ওপর অন্য রাষ্ট্র সহজেই নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে।

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতায় এসে পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ঘোষিত অগ্রগতির পরিবর্তে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখা যায়নি। বরং প্রধান উপদেষ্টা অতিমাত্রায় বিদেশ সফর করেছেন, যা সংখ্যার দিক থেকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মহসিন আলী খান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের অন্য অংশের কাজ। সহযোগী হিসেবে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারে, তবে এ দায়িত্ব অন্যদের।

সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন হলেও বৈদেশিক নীতি নিয়ে আলাদা কোনো কমিশন হয়নি এবং কার্যকর উদ্যোগও দেখা যায়নি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও এর স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেও পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি।

সংলাপে আরও বক্তৃতা করেন জনতা পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, এবি পার্টির সহকারী সদস্যসচিব ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আরও ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা অ্যামাজনের

নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণে নতুন নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের

ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে শনাক্ত করা হয় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মরদেহ

জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিএনপিকর্মীর মৃত্যু

শীতে মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

ঝোড়ো আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে রোমে বিপর্যয়

সমুদ্রের নিচে ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন সুড়ঙ্গ উন্মোচন ইরানের

প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ চাকরি দিচ্ছে সিঙ্গার

এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ

১০

ডিএমএফের নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা

১১

বিএনপির জোট প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থীকে জরিমানা

১২

নৌপুলিশ বোটে আগুন

১৩

দক্ষিণ আমেরিকায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

১৪

অস্থায়ী মেঘলা ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত?

১৫

আপনাদের উন্নয়নে-নিরাপত্তায় জীবন উৎসর্গ করতে চাই : শামা ওবায়েদ

১৬

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৭

সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় 

১৮

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের রেকর্ড দাম, নতুন ইতিহাস

১৯

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল সফরে তারেক রহমান, জিয়ারত করবেন শাহ মখদুমের মাজার

২০
X