কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হতভাগা বাবা শাস্তি পেলেন সন্তান ‘মানুষ’ করতে না পারায়

গ্রাফিক্স : কালবেলা
গ্রাফিক্স : কালবেলা

দৈনিক কালবেলায় ৩০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ‘বাবার দাফন আটকে দিল ৫ মেয়ে’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে কালবেলার ফেসবুক পেজে (Kalbela Online) পাঠকের মতামত থেকে বাছাইকৃত মতামত প্রকাশ করা হলো।

সজীব খান : পিতা তার কর্তব্য পালন করেন নাই, এটা অন্যায়। মেয়েরা জামাইয়ের চাপে পড়ে এসব করতে বাধ্য হয়েছে। ছেলে ও ছেলের বউকে পুলিশের হেফাজতে আনা হোক। মেয়েদের হক আদায় করে দেওয়া সরকার ও সমাজের উচিত।

মো. সিদ্দিক : সন্তান হিসেবে অবশ্যই মেয়েরাও বাবার সম্পদের অংশীদার। দেশের প্রচলিত আইন এবং ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক মেয়েরাও সম্পদ প্রাপ্য। তাদের বঞ্চিত করে ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক ছেলেদের এককভাবে সম্পদ লিখে দেওয়া সম্পূর্ণ ইসলাম এবং প্রচলিত আইনবিরোধী কাজ। ঘটনাটা সবার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

মো. আবু জাফর ইসলাম : ইসলামী বিধান হলো পিতার সম্পত্তির এক ভাগ মেয়েরা পাবে আর ছেলেরা পাবে তার ডাবল, এখানে মেয়েদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য ভাইকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত।

তোফায়েল আহমেদ তুষার : দুর্ভাগা বাবা। সন্তানরা সঠিক শিক্ষা নিতে পারেনি। তারাও পাপী দুর্ভাগা সন্তান।

মো. মনিরুল ইসলাম : সম্পদের ভাগ বোনদের দিতে হয়। না দিলে তারা কী করবে।

সামিউল ইসলাম : বাবার সম্পত্তির অধিকারী মেয়েরা। তবে তাদের বাবার থেকে সম্পত্তি কখনোই বড় নয়। নিউজে বলা আছে, তাদের ভাই বাবার সম্পত্তি লিখে নিয়েছে। মেয়েদের উচিত তাদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া বা বাবার মৃত্যুর আগেই এই বিষয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলা। তার মৃত্যুর পর এভাবে লাশ আটকিয়ে দেওয়াটা কখনোই উচিত নয়। বাবা আসলেই দুর্ভাগা। এদিকে তার মেয়েরা এক সময় বুঝতে পারবে তারা কতটা নিকৃষ্ট কাজটাই না করেছে তাদের মৃত বাবার প্রতি। আর তাদের বাবা তো মারাই গেছেন তার এই অবিচারের শাস্তি আল্লাহ তায়ালাই দেবেন। তার দাফন আটকিয়ে রাখলে তো আর তিনি জীবিত হয়ে তাদের সম্পত্তি দিতে পারবেন না। মানুষ মারা যাওয়ার পর তার লাশ বা দাফন আটকানো নিকৃষ্টতারই পরিচয় দেয়। আল্লাহ সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুক।

ইমরান শাহ : মেয়েদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সম্পত্তি ভাই নিয়ে গেছে, তাই এই ঘটনা।

রুহুল আমিন : এই সংবাদটা বেশি করে প্রচার হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশে সন্তানদের হক মেরে খাওয়া পিতার বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। শুনতে ভালো লাগেনি, তারপরও ঠিক কাজই করেছে মেয়েরা।

উপুল দাস মনন : আপনাদের নিউজটি পড়েছি। বাবা তো ইচ্ছে করে সম্পদ লিখে দেননি। ছেলে অসুস্থ বাবার দুর্বলতার সুযোগে সিস্টেমে টিপ নিয়ে নিয়েছে। আর মেয়েরা বাবার দাফন আটকিয়েছে। এতে বোজা যাচ্ছে তারা ভুলে গেছে যে, ওই বাবার কারণেই তারা সৃষ্টিকর্তার সুন্দর এই পৃথিবীতে এসেছিল। বাবার দাফন আটকিয়ে তারা প্রমাণ করল তারাও ভাইয়ের মতো সম্পদ লোভী।

লাকী ইসলাম ফাতেমা : যদিও মেয়েদের এমনটা করা উচিত হয়নি, তবে বাস্তবতা হলো তাদের পিতা অন্যায় করেছেন, ওয়ারিশ ঠকিয়েছেন, এর শাস্তি তিনি পরকালে পাবেন। আর ভাইও অনেক বড় অন্যায় করেছেন; বোনদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে, তাদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে। যেহেতু তাদের পিতা মারা গিয়েছেন, তাই তাদের কুলাঙ্গার ভাইকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তাকে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তিনি নিশ্চয়ই জঘন্য অপরাধ করেছেন।

কাজী তুষার : ছেলে যদি কৌশলে অসুস্থ অবচেতন অবস্থায় থাকা বাবার সব সম্পত্তি লিখিয়ে নেয় সেটার দায়ভার বাবার ওপর বর্তায় কীভাবে? হক নষ্ট করেছে ছেলে। মেয়েদের উচিত হয়নি বাবার লাশ দাফনে বাধা দেওয়া। আঙুলে কালির দাগ দেখে বোঝাই যায় যে, বাবার তখন সই করার ক্ষমতা ছিল না। গ্রামের স্থানীয় মানুষকে সাক্ষী রেখে উচিত ছিল, দাফন করে ফেলা। আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত। হায়রে সম্পত্তি কাদের জন্য জোগাবেন যা নিয়ে যেতে পারবেন না। সেই সম্পত্তির জন্য দাফন করতেও দিচ্ছে না।

জাকির মাহী : এ কাজটি ভালো করেনি, মৃত্যুর পরে এই দুনিয়ায় তার কোনো বিচার হতে পারে না। জ্ঞান থাকতে ছেলেকে ধন-সম্পদ লিখে দিয়ে যায়, আর মেয়েদের যদি না দেয় সেজন্য তার আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আর ছেলে জোরপূর্বক ধন সম্পদ লিখে নেয় তাকে আইনের আওতায় আনা হোক, বাবার সম্পত্তি ভাই-বোন সবাই অধিকার আছে।

মীর কাশেম : হায়রে সম্পত্তি! সম্পত্তি থাকলেও দোষ, না থাকলেও দোষ। মুমূর্ষু বাবা থেকে একমাত্র ছেলে টিপ সই নিয়ে বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে এক অপরাধ করেছেন। আবার বোনদের ভয়ে মৃত বাবার লাশ রেখে পালিয়ে তিনি আরেক অপরাধ করেছেন। আর সম্পত্তির জন্য মৃত বাবার লাশ দাফন আটকে রেখে মেয়েরা আরও বেশি অপরাধ করেছেন। ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না দিয়ে গ্রামের ইমাম-হুজুর বলছেন, মেয়েদের হক মারার কারণে মৃত বাবার জানাজা পড়াবেন না। এই ফতোয়া কি কোরআন-হাদিসে আছে? আগে মৃত ব্যক্তির জানাজা দাফন করতো। তারপর গ্রামের মেম্বার সর্দাররা তার আত্মীয়স্বজন ডেকে ছেলেমেয়ে নিয়ে বিচার সালিশে বসত। রেখে যাওয়া সহায় সম্পদের একটা ভাগাভাগি হতো। প্রয়োজনে আইন-আদালতে সমাধান হতো। এসব না করে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন আটকিয়ে সংশ্লিষ্টরা গর্হিত অপরাধ করেছে। এগুলো পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের কুফল। অপরাধী ছেলে-মেয়ে সবার বিচার হওয়া উচিত।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

লাশ পোড়ানো ও মিছিলে নেতৃত্বদানকারী সেই যুবক গ্রেপ্তার

সাংবাদিক নঈম নিজামের মা ফাতেমা বেগম আর নেই

৩ দিনে যত টাকা পেলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

ইসরায়েলে আগাম হামলার হুমকি ইরানের

বিশ্বকাপের লক্ষ্যেই সান্তোসে চুক্তি বাড়ালেন নেইমার

কালীগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নির্বাচনী কর্মশালা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হত্যাকাণ্ডে মামলা

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে কাদের, কত জামানত লাগবে

১৪তম বর্ষে পদার্পণে টিকিটে বড় ছাড় দিল নভোএয়ার

১০

শৈত্যপ্রবাহ আর কয়দিন থাকবে জানালেন আবহাওয়াবিদ

১১

ঘুমের আগে কোন খাবার ও পানীয় খেলে ভালো ঘুম হবে

১২

হাফেজি পাগড়ি পরা হলো না ওসমানের

১৩

গুলিতে নিহত মুসাব্বিরের মরদেহ নেওয়া হবে নয়াপল্টনে, বাদ জোহর জানাজা

১৪

চবিতে রামদাসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার

১৫

বিলবাওকে ৫ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে বার্সা

১৬

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির টাকা কী করা হবে, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

১৭

উত্তর আটলান্টিকে তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

জয় দিয়েই খাজাকে বিদায় বলল অস্ট্রেলিয়া

১৯

মুড়ি পার্টিতে নিয়ে স্কুলছাত্র নিহত

২০
X