বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করছেন দলটির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান বাম নেতা মনজুরুল আহসান খান। রোববার (১৪ জুলাই) তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত তিন জুলাই পদত্যাগপত্রটি তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠালে তারা সে পত্র গ্রহণ করে।
দলের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং জীবিত কমরেডদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে সাতবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সে সম্পর্কে তদন্ত করতে বলেছিলাম। আপনারা তদন্ত না করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিককালে লুটপাটতন্ত্র, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ার জন্য, কংগ্রেসে গৃহীত সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত হয়ে বিশ্বাসঘাতকতামূলকভাবে সুবিধাবাদী, সংস্কারবাদী লাইন অনুসরণ করে চলেছেন। পার্টি পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক-কেন্দ্রিকতার নীতি অগ্রাহ্য করে গায়ের জোরে, আধিপত্যবাদী কায়দায় ও হুকুমদারীর রেজিমেন্টশনের পদ্ধতিতে পার্টি চালাচ্ছেন। এমতাবস্থায় আমি পার্টি থেকে পদত্যাগ করছি।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও বলেন, পার্টির সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে যে বিপুল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি এবং তার সঙ্গে সঙ্গে মার্কসবাদী দর্শনের যে মর্মবাদ আত্মস্থ করেছি তা আমার জীবন পথের পাথেয় হয়ে থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস পার্টির অন্যান্য কমরেড যারা এখনো বিপ্লবী আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে দলকে সঠিক পথে নিয়ে আসবে এবং বিশ্বাসঘাতকদের পার্টি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করবে।
মনজুরুল আহসান খানের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স কালবেলাকে বলেন, বিগত দিনে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে মনজুরুল আহসান খানকে দলের উপদেষ্টার পদ থেকে বাদ দেওয়া ও ছয় মাসের জন্য তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তখন সিদ্ধান্ত ছিল ছয় মাসের মধ্যে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে না আনলে সব ধরনের সদস্যপদ বাতিল হবে। দেখা গেছে গত ১২ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক শুরুর দুই দিন আগে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠান। কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন শেষে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পদত্যাগপত্রে তার উল্লেখ করা অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রুহিন হোসেন প্রিন্স।
মন্তব্য করুন