কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফ্যাসিস্ট দোসরদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে : সাকি

আহত-নিখোঁজ ও শহীদদের তালিকা প্রকাশ এবং স্মরণ অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা
আহত-নিখোঁজ ও শহীদদের তালিকা প্রকাশ এবং স্মরণ অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশের মানুষ নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য লড়াই করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। দেশকে যারা আবারও পুরোনো ফ্যাসিস্ট কাঠামোয় ফেরত নিতে চায় তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেঙ্গলি মিডিয়াম হাইস্কুলে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুর-আদাবর অঞ্চলে আহত-নিখোঁজ ও শহীদদের তালিকা প্রকাশ ও স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা মোহাম্মদপুর-আদাবর অঞ্চলে ২২ জন নিহত, ২২৭ জন আহত ও ২ জনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে।

আহত-নিখোঁজ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে অতিদ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। আহতদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আমরা সরকারকে দ্রুত আহতদের চিকিৎসায় মনোযোগী হওয়া এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

যে সব মানুষ মানুষের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জীবন দিতে পর্যন্ত কুণ্ঠাবোধ করেননি- তারা এই জাতির জন্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতরে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম দায় তাদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া আর প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা। নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত শেখ হাসিনাসহ প্রত্যেকের বিচার করতে হবে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি অত্যন্ত ন্যায্য। শেখ হাসিনার আমল থেকে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করেছেন, জীবন দিয়েছেন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের বলি এ গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের পাশাপাশি জনতাও অংশগ্রহণ করেছেন। জনতার মধ্যে শ্রমিক-কৃষক-শ্রমজীবী মানুষও রয়েছেন। সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে শ্রমিকরা জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিস্টদের প্রতিরোধ করেছেন। তাই বলি পতিত ফ্যাসিস্টরা যাতে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে ব্যাপারেও শ্রমিকদের সচেতন থাকতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এক বর্বর শাসন কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে এমনকি যারা আহত হয়েছেন- তাদের চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেয়নি। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ হবে এই শহীদদের পূর্ণ তালিকা করা এবং আহতদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার সরকার আমাদের উপর যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, নাগরিক হিসেবে আমাদের সব মর্যাদা কেড়ে নিয়ে আমাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে- সে সব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান।

জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা যদি পূরণ করতে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ আবার তার অধিকারের জন্য রাজপথে লড়াই করবে।

সভাপতির বক্তব্যে ফাইয়াজ ফিরোজ বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও নিখোঁজদের তালিকা প্রণয়নে কমিশন গঠন করতে হবে। একজন শহীদও যাতে তালিকার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মোহাম্মদপুর থানার সংগঠক ফাইয়াজ ফিরোজের সভাপতিত্বে ও গণসংহতি আন্দোলনের সংগঠক হাসান আল মেহেদীর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমম্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, বিশিষ্ট সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, উত্তরের আহ্বায়ক মনিরুল হুদা বাবন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু হানীফা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নুসরাত হক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সজল আহমেদসহ নেতারা।

স্মরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আলিফ দেওয়ান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মাহবুব রতনসহ নেতারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় পর্দায় ফেরার অপেক্ষায় ফারিন

ইঁদুরে তার কাটায় রাজধানীতে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল এআই ক্যামেরা!

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিতে অশান্তি করতে পারেন নেতানিয়াহু : মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

ঢাকা কলেজে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি, এটা ইতিহাসে প্রথম : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরে গুরুত্ব পাবে যেসব বিষয়

ব্রাজিলের জয়ে মাথা ন্যাড়া, কথা রাখলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক রাফি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এমওইউ নিয়ে হোয়াইট হাউসের বার্তা

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ : ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১১

শেষ হলো আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতার ৩য় আসর

১২

পেনশনে বড় সুখবর : ৫ বছর চাকরিতেই সুবিধা, সর্বোচ্চ হার ৯০ শতাংশ

১৩

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চাপ সামলাতে বাড়তে পারে ট্রাইব্যুনাল: চিফ প্রসিকিউটর

১৪

হবিগঞ্জে গ্যাসের সন্ধান, চলছে অনুসন্ধান

১৫

বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পর পরিদর্শনে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী

১৬

আর্জেন্টিনার পতাকা চুরি, থানায় অভিযোগ সমর্থকের

১৭

দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মামুনুল হক

১৮

টানা দুই দফা বড় পতনে কত হলো স্বর্ণের দাম

১৯

ভেনিসে হামলার শিকার বাংলাদেশি রাকিবের মৃত্যু

২০
X