মো. ইকরাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

নির্বাচন মানেই কি পাড়া-মহল্লায় পোস্টার আর কানের কাছে চড়া গলার মাইকিং? যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে আপনি এখনও মান্ধাতা আমলের মার্কেটিংয়ে পড়ে আছেন। মনে রাখবেন, মানুষ এখন আর কেবল ‘মার্কা’ দেখে ভোট দেয় না; ভোট দেয় সেই প্রার্থীকে যাকে সে নিজের ‘আস্থার মানুষ’ মনে করে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বর্তমানে আস্থা অর্জন করতে পারলেই জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় হুহু করে। কিন্তু সোশ্যালমিডিয়াতে ডিজিটাল মার্কেটিং করতে হলে অফলাইন অ্যাক্টিভিটিসে ইউনিক কিছু পরিকল্পনা থাকতে হবে।

একজন প্রার্থীকে জয়ী করতে হলে আপনাকে কেবল ‘প্রার্থী’ হিসেবে নয়, বরং এলাকার সমস্যার ‘একমাত্র সমাধান’ বা ‘মাস্টার মেন্টর’ হিসেবে পজিশনিং করতে হবে। অনলাইন ব্র্যান্ডিং কনসালটেন্ট হিসেবে কয়েকজন সংসদপ্রার্থীর ব্র্যান্ডিং নিয়ে প্লানিং সাজিয়ে দিচ্ছিলাম। ভাবলাম কিছুটা পরামর্শ সর্বসাধারনের জন্যও শেয়ার করি। ভোটারদের সাইকোলজি বুঝে অ্যাক্টিভিটিসগুলো কি কি হতে পারে, যা নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিলে সেটা ব্যাপকভাবে ভোটারদের আকর্ষন করতে পারবে, সেইরকম কিছু পরিকল্পনা এই লেখাটাতে শেয়ার করবো।

১. সুপ্ত ভোটার

এই ভোটাররা রাজনীতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। এরা ফেসবুক স্ক্রল করে বিনোদনের জন্য। এদের কাছে সরাসরি ভোট চাইলে এরা বিরক্ত হবে।

স্ট্র্যাটেজি: ব্র্যান্ড রিকল বা পরিচিতি তৈরি করা।

কনটেন্ট আইডিয়া: এলাকার একজন অতি সাধারণ কিন্তু গুণী মানুষকে (যেমন—পুরনো লাইব্রেরিয়ান, মসজিদের মোয়াজ্জিন বা ৫০ বছর ধরে কাজ করা কোনো দর্জি) সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভিডিও সিরিজ বানাবেন। ‘ইনি আমাদের রহমত কাকা। উনার হাতের সেলাই ছাড়া এই এলাকার মানুষের ঈদ হতো না। এমন গুণী মানুষদের সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

কেন কাজ করবে: এই অডিয়েন্স সাধারণত সেলিব্রেটি বা বড় নেতাদের পছন্দ করে না। কিন্তু যখন দেখবে আপনি সাধারণ মানুষকে সম্মান দিচ্ছেন, তখন তারা আপনার 'ম্যানার' আর 'ব্যক্তিত্বের' ফ্যান হয়ে যাবে। এটাই হলো 'ইনডাইরেক্ট ব্র্যান্ডিং'। ২. দ্বিধাগ্রস্ত ভোটার এরা ভোট দিতে চায়, কিন্তু কাকে দেবে তা নিয়ে কনফিউজড। এরা ভয় পায়—ভুল প্রার্থীকে দিলে এলাকার উন্নয়ন থেমে যাবে কি না। স্ট্র্যাটেজি: ভয় দূর করা এবং আস্থা তৈরি।

কনটেন্ট আইডিয়া: ‘মিথ ভাঙা সিরিজ। এলাকার প্রচলিত সমস্যা (যেমন: ড্রেনেজ বা চাঁদাবাজি) নিয়ে প্রার্থী নিজে সরাসরি ক্যামেরা লেন্সের দিকে তাকিয়ে বলবেন কেন বিগত বছরগুলোতে কাজ হয়নি এবং তার কাছে নির্দিষ্ট কী সমাধান আছে। কেন কাজ করবে: প্রার্থীর 'এক্সপার্ট পজিশনিং' তৈরি হবে। ভোটার ভাববে, "এই লোকটা অন্তত সমস্যাটা বোঝে।"

৩. একটিভ ভোটার এরা আপনার হার্ডকোর সাপোর্টার বা একদম প্রস্তুত ভোটার। এরা শুধু জানতে চায়—কেন আপনাকেই ভোট দেবে? স্ট্র্যাটেজি: 'কনভার্সন' বা সরাসরি ভোট নিশ্চিত করা।

কনটেন্ট আইডিয়া: প্রার্থীর ভিশন বা 'ইলেকশন ইশতেহার' এর ১ মিনিটের হাই-এনার্জি ভিডিও। যেখানে পয়েন্ট আকারে বড় বড় অর্জনের প্রমান দেওয়া হবে।

কেন কাজ করবে: এরা আপনার কনটেন্ট শেয়ার করে অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেবে এবং সরাসরি বুথে গিয়ে ভোট নিশ্চিত করবে। ‘The best marketing doesn't feel like marketing.’

মনে রাখবেন, আপনি ভোটারদের কাছে নিজেকে ‘প্রার্থী’ হিসেবে বিক্রি করছেন না, আপনি বিক্রি করছেন 'একটি সুন্দর এলাকার স্বপ্ন'। স্বপ্নের চেয়ে বড় মার্কেটিং আর কিছু নেই!

বয়সভিত্তিক অফলাইন অ্যাক্টিভিটিস পরিকল্পনা জরুরি

১. প্রবীণ ও মুরুব্বি (৬০+ বছর) – শ্রদ্ধা ও পরামর্শ' স্ট্র্যাটেজি

এই বয়সের মানুষরা চায় সম্মান। তারা মনে করে আজকের প্রজন্ম তাদের ভুলে গেছে।

· অ্যাক্টিভিটি: 'স্মৃতিতে অম্লান' বৃক্ষরোপণ” এলাকার সবচেয়ে মুরুব্বি ১০০ জন মানুষকে সাথে নিয়ে এলাকার স্কুল বা মসজিদের সামনে গাছ লাগানোর কর্মসূচি পালন করুন এবং সেই গাছের নামফলকে ওই মুরুব্বির নাম লিখে দেওয়া (যেমন: হাজ্বী রহমত উল্লাহ সাহেবের হাতে রোপিত)।

কেন কাজ করবে: মানুষ অমর হতে চায়। ওই ফলকটি যখন তার নামের সাথে থাকবে, তখন তিনি এবং তার পুরো বংশ আপনার প্রতি আজীবনের জন্য ঋণী হয়ে যাবে। পুরো বংশের ভোট আপনার বক্সে। ২. মধ্যবয়স্ক ও অভিভাবক (৩৫–৫৫ বছর) – নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ' স্ট্র্যাটেজি এরা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে। · অ্যাক্টিভিটি: পারিবারিক সুরক্ষা ক্যাম্পেইন বা স্বাস্থ্য ক্যাম্প। যেমন—ফ্রি ব্লাড প্রেশার চেকআপ বা চোখের ক্যাম্প। · কেন কাজ করবে: যখন আপনি সরাসরি তাদের বা তাদের বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নেবেন, তখন আপনি তাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠবেন। এটি 'ট্রাস্ট' তৈরির সবচেয়ে দ্রুত উপায়। ৩. তরুণ ও যুবক (১৮–৩৪ বছর) – সুযোগ ও স্কিল স্ট্র্যাটেজি এরা চায় ক্যারিয়ারের সুযোগ, খেলার মাঠ এবং আধুনিক সুবিধা। এরা গতানুগতিক ভাষণে বিরক্ত। · অ্যাক্টিভিটি: ইউথ টাউন হল বা স্পোর্টস টুর্নামেন্ট। প্রার্থীর নামে একটি ফুটবল বা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা। অথবা এলাকার ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি মিট-আপ।

কেন কাজ করবে: তরুণরা আপনাকে আধুনিক ও প্রগতিশীল নেতা হিসেবে দেখবে। তারা আপনার ডিজিটাল কন্টেন্টগুলো অর্গানিকভাবে শেয়ার করবে।

৪. কিশোর ও শিশু (ভোট দিতে পারে না, কিন্তু ইনফ্লুয়েন্সার)

শিশুরা ভোট দিতে না পারলেও তারা মা-বাবার ইমোশন হ্যাক করতে পারে। অ্যাক্টিভিটি: এলাকার স্কুলগুলোর সামনে বা পার্কে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কেন কাজ করবে: শিশু যখন একটি পুরস্কার নিয়ে বাসায় ফিরবে এবং মা-বাবাকে বলবে, ‘আজকে অমুক আঙ্কেল আমাদের এই গিফট দিয়েছে’, তখন মা-বাবার মনে প্রার্থীর জন্য সফট কর্নার তৈরি হবে।

৫টি ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিটিস প্রার্থির প্রতি আস্থা বাড়াবে:

জনগণ এখন প্রতিশ্রুতি শুনে অভ্যস্ত, কিন্তু 'কাজ' দেখে অভ্যস্ত নয়। আপনি যদি নির্বাচনের আগেই নিজের উদ্যোগে কিছু কাজ করে দেখান, তবে মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্মাবে যে— ‘উনি ক্ষমতায় না এসেই যদি এতটুকু করতে পারেন, তবে ক্ষমতায় আসলে তো আরও চমৎকার কাজ করবেন!’

নিচে ৫টি ইউনিক অফলাইন অ্যাক্টিভিটি প্ল্যান দেওয়া হলো যা সরাসরি মানুষের হৃদয় এবং বিবেককে নাড়া দেবে:

১. ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ উদ্যোগ (খাল ও পুকুর সংস্কার): এলাকার পরিত্যক্ত বা নোংরা পুকুর এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনগুলো এলাকার তরুণদের সাথে নিয়ে পরিষ্কার করুন। ·কেন এটি কাজ করবে: ড্রেনেজ সমস্যা প্রতিটি পরিবারের সাধারণ পেইন পয়েন্ট। আপনি যখন সরাসরি ময়লা পরিষ্কারে হাত লাগাবেন, তখন আপনার 'ক্লিন ইমেজ' মানুষের ব্রেইনে সেট হয়ে যাবে। সাথে গাছ লাগানোর কর্মসূচি যোগ করলে এটি একটি পরিবেশবান্ধব আন্দোলনের রূপ নেবে।

২. মাছের আনন্দ ও গণ-পিকনিক: নিজের পুকুরের মাছ রিকশাওয়ালা এবং এরকম প্রান্তিক কর্মজীবিদের সবাইকে নিয়ে ধরা এবং সেই মাছ দিয়ে বিশাল এক ভোজের আয়োজন, যাতে পুরো এলাকার মানুষকে দাওয়াত করা। ·কেন এটি কাজ করবে: এটি কেবল খাবার নয়, এটি একটি 'সামাজিক উৎসব'। সবাই মিলে মাছ ধরার আনন্দ আর একসাথে বসে খাওয়ার ফলে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরি হবে, তা কোনো রাজনৈতিক ভাষণে সম্ভব নয়। এটি ভোটারদের সাথে আপনার 'আত্মিক বন্ধন' তৈরি করবে।

৩. ‘আমাদের রাস্তা আমরাই গড়ি’ (শ্রমদান): স্কুল বা মসজিদে যাওয়ার মাটির রাস্তা যা বৃষ্টির দিনে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মেরামত করা। · কেন এটি কাজ করবে: মানুষের মনে এই বিশ্বাস জন্মাবে যে— "উনি ক্ষমতায় না এসেই যদি এতটুকু করতে পারেন, তবে ক্ষমতায় আসলে তো আরও চমৎকার কাজ করবেন!"

৪. মাদ্রাসা কেন্দ্রিক অ্যাক্টিভিটিস

মাদ্রাসাগুলো এলাকার একটি বড় নেটওয়ার্ক। এদের সাথে কানেক্ট হওয়ার জন্য সরাসরি অনুদানের চেয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। - মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিট বিতরণ করুন। - বড় পরিসরে হিফজ বা কেরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা এবং বিজয়ীদের বড় পুরস্কার দেওয়া। এটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে আপনার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দেবে। ·কেন এটি কাজ করবে: ইসলাম প্রিয় অডিয়েন্স সাধারণত 'ট্রাস্ট' (Trust) এবং 'খিদমত' (Service)-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনার এই কার্যক্রম সেই অডিয়েন্সকে ভিন্ন রকম আকর্ষন তৈরি করতে সক্ষম হবে।

৫. স্কিল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ: এলাকার বেকার তরুণদের জন্য অনলাইন ইনকাম বিষয়ক বড় করে ডে লং ফ্রি সেমিনার ব্যবস্থা করা। যেখানে অনলাইনে তরুণ সমাজের কাছে আকর্ষনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এনে প্রোগ্রামটার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারবেন। সেই প্রোগ্রামে এলাকার টপ ফ্রিল্যান্সারদের সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা করলেতো আর কথাই নাই। কেন এটি কাজ করবে:

বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বড় দাবি। আপনি তাদের আয়ের পথ দেখাচ্ছেন, এটি তাদের কাছে বিশাল একটি ভ্যালু। তরুণ ভোটারদের নিয়ে বিশাল রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করার চাইতে এই আয়োজনে সর্ব সাধারণ তরুনদের নজর কাড়তে পারবেন খুব সহজে।

ভোটারদের টপ অফ মাইন্ডে থাকার ১০টি মাস্টার টিপস:

১. রেগুলার উপস্থিতি : দিনে অন্তত ৩টি ভিন্ন ফরম্যাটের কন্টেন্ট দিন। সকালে ইনফোগ্রাফিক, দুপুরে ছোট ভিডিও আর রাতে একটি ইমোশনাল স্ট্যাটাস। ভোটার যেন ফোন খুললেই আপনাকে দেখে। ২. কমেন্ট সেকশনে অ্যাক্টিভ থাকা: ভোটারদের কমেন্টের রিপ্লাই নিজে (বা আপনার টিমের মাধ্যমে) দিন। মানুষ যখন তার সমস্যার কথা লিখে রিপ্লাই পায়, তখন সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এবং প্রার্থীর প্রতি অনুগত হয়ে পড়ে। ৩. বিহাইন্ড দ্য সিন : প্রার্থীর প্রচারণার পেছনের কষ্ট, রাত জেগে মিটিং বা সাধারণ মানুষের সাথে দুপুরের খাবার খাওয়ার মুহূর্তগুলো দেখান। পারফেক্ট শটের চেয়ে 'রিয়েল শট' বেশি কানেক্ট করে। ৪. ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট : সাধারণ মানুষ যখন প্রার্থীকে নিয়ে ভালো কিছু বলবে, সেই ছোট ক্লিপগুলো বেশি করে প্রচার করুন। নিজের ঢাক নিজে পেটানোর চেয়ে অন্য কেউ প্রশংসা করলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। ৫. লোকাল হুক ব্যবহার: ভিডিওর শুরুতে এলাকার নির্দিষ্ট কোনো ভাষা, আঞ্চলিক প্রবাদ বা পরিচিত জায়গার নাম দিয়ে শুরু করুন। এতে ৩ সেকেন্ডের মধ্যেই অডিয়েন্সের মনোযোগ আটকে যাবে। ৬. প্রশ্নোত্তর পর্ব : সপ্তাহে একদিন লাইভে এসে ভোটারদের সরাসরি কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিন। এটি প্রার্থীর স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করে। ৭. স্মার্ট রিকল ভ্যালু: প্রার্থীর মার্কার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নির্দিষ্ট কালার প্যালেট বা সিগনেচার টিউন ব্যবহার করুন কন্টেন্টে, যাতে ওই রঙ বা শব্দ শুনলেই প্রার্থীর কথা মনে পড়ে। ৮. মিথ বা গুজব খণ্ডন: বিরোধী পক্ষ কোনো নেতিবাচক প্রচারণা চালালে সেটি নিয়ে চুপ না থেকে ‘ফ্যাক্ট চেক’ ভিডিওর মাধ্যমে দ্রুত ক্লিয়ারেন্স দিন। মাঠ খালি রাখা যাবে না। ৯. ইউনিক সল্যুশন ভিডিও: আমি উন্নয়ন করবো না বলে এলাকার নির্দিষ্ট একটি গলি বা ড্রেন দেখিয়ে বলুন, এই জায়গাটি আমি ১০ দিনে ঠিক করার প্ল্যান করেছি। নির্দিষ্ট লক্ষ্য মানুষকে বেশি টানে। ১০. ইনফ্লুয়েন্সার কোলাবরেশন: এলাকার পরিচিত মুখ বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে ছোট কন্টেন্ট করুন। তাদের অডিয়েন্স তখন আপনার প্রার্থীর ওপর আস্থা রাখা শুরু করবে। শেষ কথা:

রাজনীতি হোক সেবার, প্রচার হোক আধুনিকতার। আসুন, আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে এমন এক প্রচারণা মডেল গড়ে তুলি, যেখানে জনসেবা আর ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে। কারণ দিনশেষে, যিনি মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকেন, মানুষ তাকেই তাদের অভিভাবক হিসেবে বেছে নেয়। নির্বাচন মানেই কেবল পোস্টার, মাইকিং আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়। আধুনিক যুগে নির্বাচনী প্রচারণা মানে হলো মানুষের সাথে একটি অদৃশ্য কিন্তু গভীর ‘ইমোশনাল কানেকশন’ তৈরি করা। আপনি যখন আপনার নির্বাচনী এলাকার ৬৬% 'অরাজনৈতিক' মানুষের কাছে তাদের ভাষায় পৌঁছাতে পারবেন, ৩০ শতাংশ সচেতন মানুষের ভরসা অর্জন করবেন এবং ৩ শতাংশ কর্মঠ কর্মীর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন—তখনই আপনি কেবল একজন 'প্রার্থী' থেকে একজন 'নেতা' হয়ে উঠবেন।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এই ৪ অভ্যাসে বাড়বে আপনার সন্তানের বুদ্ধি

কারাগারে দুই খুনির প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে

প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য জেনেও অনুষ্ঠিত ৭ কলেজের পরীক্ষা, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি  

আবেগে ভাসলেন রানী মুখার্জি

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

ব্যাংক লুটের চেয়ে ভোট ভিক্ষা উত্তম : হাসনাত আব্দুল্লাহ

অস্ট্রেলিয়ায় ছড়ি ঘোরাচ্ছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

চিনি খাওয়া কমালে কি ক্যানসার প্রতিরোধ হয়? যা বললেন চিকিৎসক

১০

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মরদেহ উদ্ধার

১১

জামায়াতকে নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর ইস্যুতে যা বললেন ফরহাদ মজহার

১২

এক নজরে অস্কার মনোনয়ন

১৩

আইসিসিকে ‘তুলোধুনো’ করলেন উপদেষ্টা ফারুকী

১৪

মুসাব্বির হত্যা : আরেক ‘শুটার’ গ্রেপ্তার

১৫

শুটিং ফেলে হঠাৎ কেন বাংলাদেশে শাকিব খান?

১৬

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

১৭

নির্বাচনের আগে তিন জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

১৮

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগ

১৯

৩০ পার হলেই খাদ্যাভ্যাস বদলানো জরুরি, জানুন কেন

২০
X