

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের নদভীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস।
সোমবার (৩০ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এ শোক প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার প্রার্থনা জানান। একইসঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মজলিস নেতারা বলেন, দ্বীনি ইলম চর্চা ও শিক্ষাদানে মাওলানা আবু তাহের নদভীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার রেখে যাওয়া শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মহান আল্লাহ যেন নদভীর সকল খেদমত কবুল করেন এবং তাকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করেন—নেতৃদ্বয় এ কামনা করেন।
এর আগে, আজ দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা আবু তাহের নদভী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
মাওলানা আবু তাহের ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর নিচিন্তাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নাজির আহমদ। শৈশবেই তিনি পারিবারিক পরিবেশে দ্বীনি শিক্ষার সূচনা করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি নানুপুর, জামিয়া ইউনুসিয়া এবং আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় অধ্যয়ন করেন। ১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদিস এবং ১৯৮১ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত ও পাকিস্তানে সফর করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং নদওয়াতুল উলামায় আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে মাওলানা আবু তাহের আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে হাদিস ও আরবি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন এবং দারুল ইকামার নাজিম হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।