শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:২৫ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন চান না : রিজভী 

ফ্যাসিবাদ বিরোধী চিত্রকর্মশালা কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা
ফ্যাসিবাদ বিরোধী চিত্রকর্মশালা কথা বলছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রকে অধঃপতিত করেছেন তার ভয়ংকর অত্যাচারিত শাসনের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, এ রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র নেই। তিনি এখন কি করতে চান? তিনি কি ২০১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনের মত পুনরাবৃত্তি করবেন? তিনি জনগণের দাবি, শৃঙ্খলিত যে গণতন্ত্র, দম বন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত হতে দিতে চান না।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জিয়াউর রহমান আর্কাইভ (জেডআরএ) আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী চিত্রকর্মশালা ও কবিতাপাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, তিনি তার মন্ত্রীদের দিয়ে বলাচ্ছেন পৃথিবীর সব দেশ ঠিক হয়ে গেছে। ঠিক হয়ে গেছে মানে আপনার অধীনে নির্বাচন? আর আপনার অধীনে নির্বাচন মানে ২০১৪-১৮ নির্বাচনের মতো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বাকিগুলোতে উপস্থিত ছিল ৫ শতাংশ। আর ২০১৮ সালের নির্বাচন করেছেন রাতে। ভোর হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের কথা, আন্তর্জাতিক শক্তির কথা কারও কথাই ঠিক না আপনার কথাই ঠিক? কিসের জন্য? কিসের জন্য এটা তো আমরা বুঝি। পৃথিবীর প্রতিটি স্বৈরাশাসক তাই করে। সবসময় তাই করেছে। ফ্লাইওভার, উড়াল সেতু, হাইওয়ে দেখায় যাতে চোখে পড়ে একটু কিন্তু সেই দেশের মানুষ একটা ডিম কিনতে পারে না। বিশ্বের সব স্বৈরশাসকরা এগুলোই দেখিয়েছে কিন্তু তারা কোনো প্রাইমারি স্কুল করেনি ভালো হাসপাতাল করেনি। মানুষের যে হাহাকার অর্ধাহার অনাহার এগুলো তাদের চোখে পড়ে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যে হারে দাম বাড়ছে আগে তো নিম্নবর্তী মানুষ কিনতে খেতে পারত না এখন সেটা মধ্যবিত্ত পর্যন্ত চলে এসেছে। তারা পারছে না কারও কাছে হাত পাততে। পারছে না ভিক্ষা করতে। তাদের যে আয় সে আয় দিয়ে কোনো কিছু কিনে খেতে পারছে না। একটি ডিম কিনতে যদি ১৭ টাকা লাগে তাহলে ফ্লাইওভার দেখিয়ে আপনি কি করবেন। পৃথিবীর সব ফ্যাসিস্টরাই এই ধরনের কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনার অধীনে নির্বাচন কী সেটা তো আমরা জানি। সেই নির্বাচনে ভোটারের দরকার নাই দেশের জনগণের দরকার নেই। বিরোধীদল দরকার নেই।

২০১৮ সালের নির্বাচনের একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের লোকেরা মাইকিং করে হুমকি দিয়েছে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের যে আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তারা নৌকায়ও ভোট চাচ্ছে না। বিরোধীদলকে হুমকি দিচ্ছে যাতে ভোটকেন্দ্রে না যায়। কোনো নির্বাচনে প্রার্থী বা বিরোধী প্রার্থী থাকলে সেই প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং করে বা পোস্টার ছাপায় কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেই নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছে না তারা ভোটারদের এবং বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। তার কারণ শেখ হাসিনা কোনো ভোট চায় না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার নেতাকর্মীরা বলেন, তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না। আপনারা কি বরাবরই সংবিধানের বাইরে যান নাই? ১৯৯৫-৯৬ সালে যে বিধ্বংসী আন্দোলন করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তখন তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে ছিল না। তখন আপনারা যে জ্বালাও পোড়া করেছেন তত্ত্বাবধায়কের দাবি তুলেছেন। তখন সব দল মিলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হলো। তাহলে আজ যাবেন না কেনো? এক মুখে দুই কথা হয় কিভাবে? আজ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে যারা আপনার হালুয়া রুটি খেয়েছে তাদের ভিন্ন কথা। দেশের অধিকাংশ মানুষ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রীকামী মানুষ সবাই দাবি তুলছে কিন্তু আপনি কারও কথাই শুনছেন না।

আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চিত্র শিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিং / বিশ্বকাপে মেসিকেও ছাড়িয়ে শীর্ষে ওঠা কে এই রামিন রেজায়িয়ান

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন এডিন জেকো

আবারও দেশে ভূমিকম্প

নতুন রাস্তা হলো, তবুও দুর্ভোগ গেল না

বরিশালে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সৌদি প্রবাসী নিহত

ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি আরইউজের

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

শাহজাহান চৌধুরীকে গুলির পরিকল্পনা ফাঁস, লোহাগাড়া-সাতকানিয়াজুড়ে তোলপাড়

১০

সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের

১১

দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা

১২

এসএসসি বিরাশিয়ান বন্ধুদের উদ্যোগে ৮২টি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১৩

২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নারীদের জন্য জব ফেয়ার

১৪

মেসিকে কেন ছাড়? ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ

১৫

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক খেলা দেখেছে?

১৬

ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শক দল কর্তৃক ৩ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন 

১৭

ঢাকা থেকে যুবলীগ নেতা আটক 

১৮

দাবি রাশেদ খাঁনের / জামায়াতের নেতারা বিনা জামানতে কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়

১৯

গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল? যা বলছেন চিকিৎসকরা

২০
X