বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:০৯ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা-১১ : বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন ওয়াকিল উদ্দিন

মো. ওয়াকিল উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
মো. ওয়াকিল উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ‘নৌকার মাঝি’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন। রোববার (৭ জানুয়ারি) এ আসনে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রে আসেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও তত বেড়েছে।

শেষ পর্যন্ত তিনি ৮৪০৫৩ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাতে তার এ বিজয় লাভের খবরে ঢাকা-১১ নির্বাচনী এলাকায় বিজয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠেন দলীয় নেতাকর্মী, ভোটারসহ এলাকাবাসী। ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন এলাকার সর্বস্তরের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত সারথী, ঢাকা মহানগর উত্তরের জননেতা মো. ওয়াকিল উদ্দিনকে এবারের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের জন্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয় তার প্রতি। দীর্ঘদিন গণসংযোগকালে ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন তিনি।

একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসায় ভোটাররা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে নৌকা মার্কায় ওয়াকিল উদ্দিনকে রায় দিয়েছেন।

এ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ছিল না কোনো অভিযোগও। ভোট শেষে মোট ১৬২টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৮৪০৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী পেয়েছেন ২৭৩২ ভোট। এ ছাড়া একতারা ১১৮১, ডাব ৪৪৭, আম ৪৭৭, মাছ ৩২২, টেলিভিশন ১৬৬, নোঙর ১১১৭ ভোট। বাতিল হয়েছে ২০৫৫ ভোট। মোট ভোট পড়েছে ৯২৫৫০।

অভূতপূর্ব এ জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা-১১ আসনে জয়ী হয়ে এই আসনের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, এখন আমি তাদের সেবা করব। আমি ১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, এখন দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। সেটা কাজে লাগাব।’

ওয়াকিল উদ্দিন বলেন, ‘সবার ভালোবাসা আমাকে আকৃষ্ট করেছে। আমি নমিনেশন পাওয়ার পর থেকেই এই আসনের সাধারণ মানুষ আমার জন্য খেটেছেন। আমি তাদের ভালোবাসার কাছে ঋণী।’

তিনি বলেন, আমি আজ থেকেই আপনাদের সেবক বলে নিজেকে পরিচয় দিতে চাই। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়াসহ সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে সর্বদা পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মো. ওয়াকিল উদ্দিন ১৯৫৪ সালের ২ জুলাই ঢাকা জেলার অভিজাত এলাকা বারিধারা (তৎকালীন কালাচাঁদপুর) গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন কুর্মিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখায় হাতেখড়ি তার। কিশোর বয়স থেকেই দেশামাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা জন্ম নেয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মাঝে। সে সময় থেকেই মাটির মানুষ হয়ে জনগণের জন্য কিছু করার অভিপ্রায়েই মগ্ন ছিলেন তিনি। দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হয়ে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। প্রথমে তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সদস্য, গুলশান থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে গুলশান থানা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৬৯ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী কাজে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক জনসভায় হাতে লাঠি নিয়ে যোগ দেন তরুণ ওয়াকিল উদ্দিন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭!

এত অল্প বয়সেও যুদ্ধকালীন সময়ে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা-পরবর্তীতেও আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেন তিনি। সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান ওয়াকিল উদ্দিন।

পরে সরকারি তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশ পুনঃগঠনে বঙ্গবন্ধুর ডাকে প্রতিটি লড়াই সংগ্রাম ও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেন ওয়াকিল উদ্দিন। যার ফলে তৎকালীন খুনি মোস্তাক ও জিয়া সরকারের প্রশাসনের রোষাণলে পড়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয় তাকে। শিকার হন অসংখ্য মামলা ও হামলার। তারপরও জনগণের সেবার রাজনীতি তিনি ছাড়েননি।

১৯৯৪ সালে তৎকালীন বৃহত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ১৮নং ওয়ার্ডের কমিশনার পদে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে স্থানীয় সরকারের অধীন ঢাকা মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪-২০১৬ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

গণমানুষের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বারিধারা করপোরেশন লিমিটেড ও বারিধারা অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া দেশের সেরা আবাসন কোম্পানি স্বদেশ প্রোপার্টিস লি. -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এ ছাড়াও তিনি প্রায় ৫০টিরও অধিক সামাজিক, ধর্মীয় এবং শিক্ষামূলক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বিশ্ব বৌদ্ধ শান্তি সংস্থার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্বরত আছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিনের বিজয়ে বিভিন্নমহল থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এরমধ্যে দেশে আবাসন খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান স্বদেশ প্রপার্টিস পরিবার, দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পরিবার পৃথক বার্তায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্রিকবাজের দাবি / আপাতত বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেয়নি আইসিসি

নতুন যে বার্তা দিলেন ‍মুস্তাফিজ

চমক রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা লঙ্কানদের

২৮ ভরি স্বর্ণ জামায়াত প্রার্থীর, পেয়েছেন বিয়েতে উপহার

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা টিআইবির

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন নিয়ে যা বলছে অধিদপ্তর

মেশিনেই ফের জকসুর ভোট গণনার সিদ্ধান্ত

চেকপোস্টে ফাঁকি দিয়ে জবি ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ

আকাশ গো ওটিটির যাত্রা শুরু

আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ অনুষ্ঠান বুধবার

১০

গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অনাকাঙ্ক্ষিত

১১

বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসছে আইসিসি

১২

তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে যুক্ত হলেন আরও ৩ জন

১৩

জকসুর ভোট গণনা নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

১৪

আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ অনুষ্ঠান বুধবার 

১৫

বিশ্বকাপে ভারতে না গেলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিবি!

১৬

কৃষক লীগ নেতা আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার

১৭

চট্টগ্রামে জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থী, সম্পদ কত?

১৮

ঝালকাঠিতে ইনসাফ মঞ্চের যাত্রা শুরু

১৯

বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

২০
X