কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্মরণসভায় বক্তারা

ডা. জাফরুল্লাহ ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, সবার জন্য চিকিৎসা অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মুখ ভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন একইসঙ্গে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশি চিকিৎসক, দানবীর, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক স্পষ্টভাষী ও সময়ের সাহসী সন্তান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার কণ্ঠ। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দেশপ্রেমিককে হারিয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ, সবার জন্য চিকিৎসা অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তিনি সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনের রয়াল কলেজ ও সার্জনসে এফআরসি ডিগ্রিতে পড়াকালীন চূড়ান্ত পর্ব শেষ না করে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। নিজে একজন চিকিৎসক হওয়ায় তিনি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল, গণবিশ্ববিদ্যালয়, গণফার্মাসিউক্যাল প্রতিষ্ঠা করে গণমানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরণ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার না থাকায় জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সুফল পাচ্ছে না। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও দেশে গণতন্ত্র ভোটাধিকার নির্বাসনে। এরশাদ সরকারের আমলে ওষুধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৃতিত্ব ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। আজকে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে ওষুধ রপ্তানি শুরু হয় এই ওষুধ নীতির কারণে।

সভাপতির বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর্তমানবতার কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। গণমানুষের মাঝে এখনো অনেকের চেয়ে তীব্র ও উজ্জ্বলভাবে বেঁচে আছেন তার কাজের মধ্য দিয়ে, তার কর্মের মধ্য দিয়ে। আমার জীবনের আইডল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কারণ উনি ক্রিয়েটিভ ছিলেন, উনি প্রতিবাদী ছিলেন। উনি যেভাবে প্রতিবাদ করতেন সমাজের কেউ তা করতেন না। এত বিগ্রহ এত জটিলতার মাঝেও উনি প্রতিবাদ করে গেছেন। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে চাই।

লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, গ্রীন ভয়েচ এডিটর মোস্তফা কামাল মজুমদার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণঅধিকারের সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন, মানবাধিকার সংরক্ষন সংস্থার চেয়ারম্যান জোহরা খাতুন জুইঁ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী মিলন, পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটন, লেবার পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহা, যুগ্ম মহাসচিব হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, মহিলা সম্পাদিকা নাসিমা নাজনিন সরকার, ছাত্রমিশন কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, মহানগর লেবার পার্টির নেতা কে এম আবু তাহের, তারেক আজিজ প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করতে হবে: ইরান

বাজেটে চামুদরিয়া ওয়াই টাইপ সেতু বরাদ্দের জোর দাবি

সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দিদার, সম্পাদক ডালিম

সীমান্তঘেঁষা নদীতে চীনের মেগা বাঁধ, পাল্টা পদক্ষেপ ভারতের 

পরিসংখ্যান বলছে ফাইনাল নিশ্চিত ব্রাজিলের!

সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

পুশইনের শিকার ২০ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ

শিশু নন্দিনী হত্যা / সরকারি গাড়ি ভাঙচুর মামলা : আসামি দেড় হাজার, পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম

সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৭ দিন ধরে আটকে ৫ যুবক

গৃহকর্মীর মৃত্যু, আলোচনায় পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান

১০

স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই বিচ্ছেদ! ধানুশ-ম্রুণালের প্রেমে নতুন মোড়

১১

পাঁচ বছর চাকরিতেই পেনশন, বাড়ল সর্বোচ্চ হার

১২

বিএনপি একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী নয় : মির্জা ফখরুল

১৩

নারীকে ‘আপনি কি সেই মাল’ বলা ওসি এনামুল প্রত্যাহার

১৪

বিশেষ সুড়ঙ্গ থেকে চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

১৫

ইরান যুদ্ধ ও অন্যান্য খাতে বিপুল ডলার চায় পেন্টাগন

১৬

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

১৭

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা ঘিরে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ স্বাস্থ্যকর্মী

১৯

তিন বছর পর ওটিটিতে ফিরছেন বিদ্যা সিনহা মিম

২০
X