কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাঁচ দিনে দেশে ৩ ভয়াবহ আগুন, যা বলছেন আজহারি

শায়খ মিজানুর রহমান আজহারি। ছবি : সংগৃহীত
শায়খ মিজানুর রহমান আজহারি। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরপর আগুনের ঘটনায় দেশের মানুষ আতঙ্কে আছেন। মিরপুরের গুদাম থেকে শুরু হওয়া এ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ল বন্দরনগরীর সিইপিজেড এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেই আগুন এসে পৌঁছাল শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কার্গো ভিলেজে।

সবশেষ, শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে একে একে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট যোগ দেয়। ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে নৌ-বাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবিসহ পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা। সন্ধ্যা নাগাদ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নেভেনি।

এদিকে ধারাবাহিক আগুন লাগার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নের ঝড় উঠছে, ‘এসব নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত?’ তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মাঝে এবার প্রশ্ন তুললেন জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ মিজানুর রহমান আজহারিও।

শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, এ দেশে অগ্নিকাণ্ড যেন এক অবিরাম চক্র— দু-একদিন প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মিছিল, গরম টকশো। তারপর আবার সবকিছু নিস্তব্ধ। ঠিক আগের মতোই! অগ্নিকাণ্ডের পর শোক, তারপর সেই চিরচেনা নীরবতা।এগুলো কি নিছক দুর্ঘটনা? কেবল-ই অবহেলা আর অব‍্যবস্থাপনা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?’

আজহারি বলেন, ‘প্রথমে মিরপুর, তারপর চট্টগ্রাম ইপিজেড, আজ আবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। আগুন যেন পিছু ছাড়ছে না। এ দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে কি? প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের রহস্য খুঁজে বের করার সময় এখনই! সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নিরপেক্ষ তদন্ত করুন। খতিয়ে দেখুন। যথাযথ ব্যবস্থা নিন।’

পোস্টটির মন্তব্যঘরে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটছে, যা আমাদের জন্য এক অশনি সংকেত। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আগুনের লেলিহান শিখা বারবার আঘাত হানছে। এসব ঘটনায় একদিকে যেমন মূল্যবান প্রাণহানি হচ্ছে, তেমনি অপরদিকে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’

‘হ্যাঁ, এটি সত্য; ​অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপ্রতুল অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দাহ্য পদার্থের অবৈধ মজুত, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস লিকেজ এবং জনসচেতনতার অভাব; এই সবকিছুই মোটাদাগে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তবে, এভাবে একের পর এক সিরিয়াল অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর মাধ্যমে স্থিতিশীল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এটি কোনো হীন ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা সেটিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

দেশবাসীর জন্য দোয়া জানিয়ে সবশেষ ইসলামি এই স্কলার লেখেন, ‘​হে আল্লাহ, আপনি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে সব ধরনের বালা-মুসিবত, বিশেষ করে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন। আমাদের ধৈর্য ধারণ করার এবং এই বিপদ কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর তাওফিক দিন।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দাম বাড়বে না : তথ্য উপদেষ্টা

সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বিভিন্ন শাখা শনিবার খোলা 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক

শান্তিরক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতি, জাতিসংঘ পদকে ভূষিত ৬ বাংলাদেশি

১০ লাখ টাকায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আপসের দাবি

শূন্য রেখায় থাকা সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা : নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত

ইরানের রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা

১০

সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ

১১

মধ্যরাতে শাকিব-বুবলীকে নিয়ে মিষ্টি জান্নাতের রহস্যময় পোস্ট

১২

পরিস্থিতি সামলাতে আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি : ট্রাম্প

১৩

স্বামীর সঙ্গে অভিমানের জেরে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

১৪

সরকারি কর্মচারীর অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি, উৎস নিয়ে প্রশ্ন

১৫

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটের ইঞ্জিনে পড়ে শিশুর মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

১৬

দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৩২ হাজি, ৪৮ জনের মৃত্যু

১৭

এক বাবার কষ্ট, হাজার মানুষের জীবনরক্ষার প্রেরণা  

১৮

৬ জুন / কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৯

শেষ হচ্ছে দীর্ঘ ছুটি, কবে খুলছে স্কুল-কলেজ

২০
X