

এবারই প্রথম বিপিএলে ডাক পেলেন ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার ক্রিস ওকস। আজ প্রথমবার মাঠে নামারও সৌভাগ্য হয়েছে তার। মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন সিলেট টাইটান্সের এই তারকা ক্রিকেটার। এ যেন ঠিক- ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।’ মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে সিলেট টাইটানসের জয়ের নায়কও বনে গেলেন তিনি।
আসলে সফল গল্পের নায়করা তো এমনই হয়! শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে সেটাই প্রমাণ করলেন ওকস। জিততে হলে প্রয়োজন ৬ রান। বল আছে মাত্র ১টি। এমন পর্বতসমান চাপ মাথায় নিয়ে ফাহিম আশরাফের করা বলটাকে কাভারের ওপর সীমানা ছাড়া করে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে সিলেটের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ওকস।
সেইসঙ্গে বিপিএলে অভূতপূর্ব এক কীর্তিও গড়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার। এই প্রথম শেষ বলে ছক্কার সমীকরণ মিলিয়ে দলকে জেতালেন কেউ। এর আগে আরও দুইবার শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে নেওয়ার উদাহরণ ছিল বিপিএলে। তবে সেই দুই ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মারার সমীকরণ ছিল না।
নিজের প্রথম বিপিএল ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখে দারুণ রোমাঞ্চিত ৩৬ বছর বয়সী ওকস। ম্যাচের শেষে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, বিপিএলের প্লে-অফ খেলতে এসে সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত। এবারই প্রথম বিপিএল খেলছি। এর আগে অবশ্যই ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছি, কিন্তু বিপিএলে এটিই আমার প্রথমবার। তাই সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে এখানে থাকতে পেরে আমি খুবই রোমাঞ্চিত।’
প্রথম যে কোনো জিনিসেই মানুষের আগ্রহ থাকে। বিপিএলে আগে কখনো না খেলতে পারায় এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগ্রহ ছিল ওকসেরও। তাই তো তিনি বলেন, ‘আসলে, আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি, তখন থেকেই চেয়েছিলাম বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা নিতে। আর এর আগে তো কখনোই বিপিএলে খেলা হয়নি।’
সেজন্য কৃতিত্বটা মঈন আলীকে দিচ্ছেন ক্রিস ওকস। তিনি বলেন, ‘মঈন আলীও সিলেট দলে আছে। আমি তাকে খুব ভালো করে চিনি, আমরা একসঙ্গে বড় হয়েছি এবং অনেক ক্রিকেট খেলেছি। তাই সে-ই এখানে আসার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। তবে এখন এখানে এসে আমি খুবই আনন্দিত এবং মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতি বেশ আলোচিত। তা জানা আছে ওকসেরও। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি ভক্তরা সবসময়ই খেলা নিয়ে খুব আবেগপ্রবণ। বিপিএল বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয়। এটি দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। তাই এমন আবেগপ্রবণ দর্শকদের সামনে থাকাটা দারুণ ব্যাপার।’
মন্তব্য করুন