মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৪০ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১১:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বড় পরাজয়ে প্রাপ্তি মাহমুদউল্লাহর শতক

দুর্দান্ত শতকের পরও পরাজিত শিবিরে মাহমুদউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
দুর্দান্ত শতকের পরও পরাজিত শিবিরে মাহমুদউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি বোলারদের কচুকাটা করে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৮৩ রান করেছে তখনই ম্যাচটি একপ্রকার বাংলাদেশের হাতের বাইরে চলে গেছে। এই রান তাড়া করে জিততে হলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বলতে গেলে এক প্রকার অসম্ভবকেই সম্ভব করতে হতো। সেটি আর পারল না লিটন-সাকিবরা। তবে এক মাহমুদউল্লাহ লড়াই করলেন। বাকি সবার অসহায় আত্মসমপর্ণ পরও নিজে শতক হাঁকালেন। অন্য প্রান্তের ব্যাটারদের বড় ব্যর্থতার কারণে বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ হার। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৪৯ রানের হারে সেমিফাইনালের অসম্ভব স্বপ্নও কার্যত শেষ হয়ে গেল।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ওয়াংখেড়েতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮২ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৪ রান করেছেন ডি কক। বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ। জবাবে খেলতে নেমে ৪৬ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৩ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ১১১ রান এসেছে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে। এই হারে বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে নেমে গেল।

৩৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় দেখেশুনে শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস ও তানজিদ তামিম। প্রথম পাঁচ ওভারে সাবধানী শুরুর পর আসে প্রোটিয়া আঘাত।

শুরুটা আগের ম্যাচে ফিফটি করা ওপেনার তানজিদ তামিমকে দিয়ে। আবারও বাজে বলে আউট হলেন তামিম। সপ্তম ওভারের প্রথম বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে করেছিলেন জানসেন। খাটো লেন্থের সেই বলে বাউন্ডারি না পাওয়াটাই যেখানে অবাক করা ব্যাপার, সেখানে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসলেন তামিম। হাফ পুল, হাফ হুকের মতো শট খেলতে গিয়ে তার গ্লাভসে লেগে বল জমা পড়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে।

এর পরের বলেই ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আসরজুড়েই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই ব্যাটার জানসেনের খাটো লেন্থের বলের সমাধান খোঁজে পাননি!

চারে নেমে ব্যর্থ হলেন সাকিব আল হাসান। আগের ওভারে জোড়া উইকেট হারানোর পর এবার অধিনায়ককেও হারাল বাংলাদেশ। লিজার্ড উইলিয়ামসের লেন্থ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে এই ব্যাটারও ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। ফলে ৩১ রান তুলতেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে টাইগাররা।

এই আসরে টাইগারদের ভরসার প্রতীক মুশফিকুর রহিমও কিছু করতে পারেননি। লিটনের সাথে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করার চেয়ে শর্ট বলে ছয় মারার ইচ্ছা হলো এই উইকেটকিপার ব্যাটারের। সরাসরি ক্যাচ গেল ডিপ থার্ডে। জেরাল্ড কোয়েৎজির উদযাপন অবশ্য হয়েছে দেখার মতোই। ৫০ এর আগেই চার উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় বাংলাদেশ।

অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটনও। কাগিসো রাবাদার বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন ২২ রান করা এই ওপেনার। উইকেটে থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। কেশভ মহারাজের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ১১ রান করা এই ব্যাটার।

৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়াই চালান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সপ্তম উইকেট জুটিতে নাসুম আহমেদকে সঙ্গী করে ৪১ রানের জুটি গড়েন রিয়াদ। তিন চারে ১৯ বলে ১৯ রান করে নাসুম আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তবে ৮ম উইকেটে হাসান মাহমুদকে সঙ্গী করে ফের লড়াই চালান বাংলাদেশের এই ‘সাইলেন্ট কিলার’। ৬৭ বলে তুলে নেন চলতি আসরের প্রথম ফিফটি।

নবম উইকেট জুটিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪র্থ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাহমুদউল্লাহ। রাবাদার বলে এক রান নিয়ে ১০৪ বলে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলেন তিনি। শতকের পর অবশ্য বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ১১১ বলে ১১১ রান করে কোয়েৎজির বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পথে দক্ষিণ আফ্রিকানদের অভিনন্দনও পেয়েছেন। একা হাতে লড়াই যেটিকে বলে, সেটিই করেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তিনি ফেরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার এই ম্যাচ শেষ করতে লেগেছে ৬ বল। শেষ ব্যাটার হিসেবে ১১ রানে ফেরেন মুস্তাফিজুর।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো অত্যাচার করে রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কুইন্টন ডি কক এবং এইডেন মার্করামের জুটিতে দ্রুত ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৩১ রানের জুটি গড়েন এইডেন মার্করাম এবং ডি কক। ৬০ রান করা মার্করামকে লং অফে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সাকিব।

জুটি ভেঙে অবশ্য আরও বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পাঁচে নেমে ক্লাসেন রীতিমতো টর্নেডো ব্যাটিং করেন। সেঞ্চুরির পর ডি ককও বাড়ান রানের গতি। ১৩২ রানের বিধ্বংসী জুটিতে তারা বল খেলেছেন মোটে ৮৭টি। ১৫ চার এবং ৭ ছয়ে ১৪০ বলে ১৭৪ রান করেছেন ডি কক। ৮ ছক্কা ও ২ চারে ৪৯ বলে ৯০ রানের দানবীয় ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন ক্লাসেন।

ডাবল হান্ড্রেড করার সম্ভাবনা তৈরি করে শেষমেশ ১৭৪ রানে ফেরেন ডি কক। ক্লাসেনেরও সুযোগ ছিল সেঞ্চুরির। তবে দুজনকেই আউট করেছেন হাসান মাহমুদ। তবে ততক্ষণে রানের পাহাড় গড়ে ফেলেছে আফ্রিকান দলটি। শেষদিকে ১৫ বলে মিলারের ৩৪ রানের ক্যামিওতে ৩৮২ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উদযাপন করতে গিয়ে কবজি ভেঙে বিশ্বকাপ শেষ হেন্ডারসনের

মহরণে স্পেন-পর্তুগাল, শুরুর একাদশে রয়েছেন যারা

পদযাত্রায় হামলার জন্য সাভারের এমপিকে সন্দেহ নাহিদের

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, ‘প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে’ দাবি নাহিদের

সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: নাহিদ ইসলাম

পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিতে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

এক উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের ৪ নেতার পদত্যাগ

শুধু ব্রাজিল নয়, ভারতকেও দুঃস্বপ্ন দেখিয়েছিলেন হালান্ড

দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার / আমি কখনো কাউকে স্যার সম্বোধন করতে বলিনি

১০

সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহতদের পরিচয় প্রকাশ

১১

রিহ্যাব সদস্যের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

১২

মেয়াদ শেষের আগেই নিয়োগ বাতিল ডেপুটি গভর্নরের

১৩

বৃষ্টি নামলেই বুক কাঁপে ফেনীবাসীর

১৪

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের পর থানা ঘেরাও

১৫

টঙ্গীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১৬

রিজার্ভ আরও বাড়ল

১৭

১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

১৮

ব্রাজিলের বিদায়ের পর বাংলাদেশি ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৯

মিসর ম্যাচের আগে স্বস্তির খবর পেল আর্জেন্টিনা

২০
X