কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৬ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১১:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মেয়েকে জীবন্ত দাফন, এ যেন আইয়ামে জাহেলিয়াত!

ছবি : প্রতীকী
ছবি : প্রতীকী

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে আরবের লোকরা তাদের কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিত। কিন্তু বর্তমান যুগে তা কল্পনাও করা যায় না। তবুও এরকম এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকায় ১৫ দিন বয়সী মেয়েকে জীবন্ত দাফন করেছেন এক বাবা।

জানা গেছে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নিজের অপরাধও স্বীকারও করেছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ জানিয়েছে, রোববার সিন্ধু প্রদেশের থারুশাহতে নিজের ১৫ দিন বয়সী মেয়েকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের দায়ে এক বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই বাবার নাম তৈয়ব।

নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি তার শিশু কন্যার চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছিলেন না। আর এ কারণেই নবজাতককে বস্তায় ভরে দাফন করেছেন।

পুলিশ অভিযুক্ত তৈয়বের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং তিনি ইতোমধ্যে তার অপরাধের স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর নাবালিকা শিশুটির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাসন্তানের বাবা হওয়া ছিল ভীষণ লজ্জার বিষয়। সমাজে তার মুখ দেখানো হতো দায়। যে দায় এড়াতে আপন কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে রাখতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করতো না আরবরা!

তাদের এই অবস্থা তুলে ধরে কোরআনে কারিমের সুরা নাহলের ৫৮ ও ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন : ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে সে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে চেহারা লুকিয়ে রাখে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে রাখবে, না মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।

এটা ছিল ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগের চিত্র, যেখানে ছিল না শিক্ষা-দীক্ষা। ওই সমাজে মানুষ হিসেবে কন্যা সন্তানদের কোনো সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। জীবনের সব ক্ষেত্রে তারা ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত, লাঞ্ছিত।

বনি তামিম গোত্রের প্রধান কায়েস বিন আসেমের একটি করুন ঘটনা আছে। একবার তিনি নবী করিম (সা.)-এর দরবারে বসে কথাপ্রসঙ্গে তিনি নিজ হাতে কীভাবে তার নিজের জীবন্ত কন্যাকে মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করেছিলেন তার বর্ণনা দিয়েছিলেন। মেয়েটি কীভাবে বাবা বাবা বলে চিৎকার-ফরিয়াদ করছিল তার বর্ণনা দিয়েছিলেন।

বর্ণনা শুনে নবী করিম (সা.)-এর দু’চোখে অশ্রুধারা বয়ে চলছিল, তার দাড়ি মোবারক ভিজে গিয়েছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সাবেক কোচের ওপর ভরসা জিম্বাবুয়ের

ইসিতে আপিল শুনানির অষ্টম দিনের কার্যক্রম চলছে

মেসিকে টপকে গেলেন রোনালদো

নিয়োগ দিচ্ছে আড়ং

উগান্ডার নেতাকে হেলিকপ্টারে তুলে নিয়ে গেছে সেনাবাহিনী

উত্তরায় আগুনে ৬ জনের মৃত্যু / পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে তিন কবর, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম

ফাইবারের স্বাস্থ্য ট্রেন্ডের চমকপ্রদ উপকারিতা

এবার ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ ও গণজমায়েতের ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

সৌন্দর্যে ঘেরা বাংলাদেশ কেন পর্যটক টানতে পারছে না

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

১০

শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে

১১

আজও বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

১২

রুমিন ফারহানার উঠান বৈঠকে ধাক্কা লাগা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ

১৩

সিলেটে তিন বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ 

১৪

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ৪ লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের যোগদান, বেতন কত?

১৫

পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে পরিবারের ১৪ জন নিহত

১৬

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রার্থীর কর্মী নিহত

১৭

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ

১৮

জরুরি বৈঠকে জামায়াত

১৯

ওজন কমাতে সকালের শুরুটা হোক সঠিক খাবার দিয়ে

২০
X