কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নিষিদ্ধ ও গভীর রহস্যের দেশ তিব্বত

তিব্বতের দৃষ্টিনন্দন এলাকা। ছবি : সংগৃহীত
তিব্বতের দৃষ্টিনন্দন এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

অদ্ভুত এক দেশ তিব্বত। নিষিদ্ধ দেশ নামেও এটি পরিচিত। নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস। রহস্যের বেড়াজালে ঘেরা তিব্বতের রাজধানী লাসাকেই মূলত নিষিদ্ধ বলা হয়ে থাকে। তবে বহির্বিশ্বের সবাই পুরো তিব্বতকেই নিষিদ্ধ বলে জানে। সেখানকার বাসিন্দারাও নিষিদ্ধ দেশের নাগরিক হিসেবে বেশ গর্ববোধও করে থাকেন।

১৯১২ সালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে তিব্বত। এর রাজধানী লাসা। যার মানে দেবতাদের ভূমি। তিব্বতের আয়তন প্রায় ১২ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৬৯ সাল থেকে তিব্বতিরা ধর্মগুরু হিসেবে দালাইলামার অধীনে চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু সে আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। চীন এখনো তিব্বতকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে থাকে। এর বর্তমান পরিচয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে। তিব্বতীয়দের ভাষা চীনা। বুদ্ধিস্ট ছাড়াও মঙ্গল ও মাঞ্চু সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছে এই অঞ্চলকে।

তিব্বত নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ আর বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। আরও একটি সূক্ষ্ম কারণ রয়েছে, যা খতিয়ে দেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, তিব্বত বছরের প্রায় ৮ মাস বরফে ঢাকা থাকে। এ কারণে এক পর্যায়ে এটি দুর্গম স্থান বলে বিবেচিত হয়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর উচ্চতায় বসবাস করাও বেশ কষ্টের।

তিব্বতের রাজধানী লাসায় দীর্ঘদিন অন্যদেশের নাগরিকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল। ফলে গোটা রাজ্যই চলে যায় রহস্যের আড়ালে। ১৯৮০ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, তিব্বতে কারও মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে সৎকার করা হয় না! তিব্বতিরা আত্মায় প্রবল বিশ্বাসী। তারা বিশ্বাস করেন, মৃত মানুষের আত্মা মরে যাওয়ার পরও এই জগতে বিচরণ করতে থাকে। তাই যে পর্যন্ত তাদের আত্মা জগৎ না ছাড়ে, সে পর্যন্ত তারা মৃতের সৎকার করেন না! আর ততক্ষণ সেই মরদেহ তাদের বাসাতেই রেখে দেন।

তিব্বতিদের অদ্ভুত সংস্কৃতি বা তাদের পরিবেশ, আবহাওয়া ইত্যাদি যেন ছাড়িয়ে গেছে নিষিদ্ধ দেশের খেতাবে। হিমালয়ের এই দেশে কার না ঘুরে বেড়াতে মন চাইবে? এতো শুভ্র সুন্দর, মনোরম দেশ পৃথিবীর বুকে আর কোথাও মেলা ভার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু : হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা

প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ২৭% নগদ লভ্যাংশ এবং ৩% বোনাস শেয়ার ঘোষণা

খেলাফত মজলিশের আমিরকে নিয়ে সংসদে বক্তব্য, এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

রোনালদোদের গ্যালারিজুড়ে ‘মেসি, মেসি’ গর্জন!

ব্যারিস্টার সুমনের দুই মামলার জামিন স্থগিত

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার অভিনেতা জোভান

দক্ষিণ কোরিয়া দলের ক্যাম্পের কাছে সন্দেহজনক ড্রোন 

চুক্তি না মানলে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

হত্যার শিকার শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে ত্রাণমন্ত্রী

উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পে সেতু সচিব

১০

ইউনুস-নুরজাহানের বিচার চেয়ে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল; ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

১১

উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ‘ইউরোপ অ্যাপ্লিকেশন ডে’ শুরু

১২

সৌদিতে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যু

১৩

৩০ মামলার আসামি কালা মাসুদ গ্রেপ্তার

১৪

আইসিএবি কফি টেবল বুক : লিগ্যাসি ইন মোশনের মোড়ক উন্মোচন

১৫

সিএমএইচ থেকে বাসায় ফিরলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক

১৬

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১৭

নতুন পে-স্কেল কার্যকর করলে বাতিল হবে যে বিশেষ সুবিধা

১৮

সরকারি খরচে বিশেষ বিমানে কানাডায় গেল কাতারি সমর্থকরা

১৯

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করছেন ডা. জুবাইদা : মঈন খান

২০
X