

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে আলোচনায় এসেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তবে তার বক্তব্যের পাশাপাশি নজর কাড়ে আরেকটি বিষয়; সম্মেলনে চার দেয়ালের ভেতর নীল রঙের প্রতিফলিত অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস।
মাখোঁ কেন সানগ্লাস পরেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি নিজে কিছু বলেননি। তবে ফরাসি গণমাধ্যম জানিয়েছে, চোখে চিকিৎসা চলার কারণে তিনি এটি পরেছিলেন।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ ফ্রান্সে একটি সামরিক অনুষ্ঠানে মাখোঁর একটি চোখ লাল দেখা যায়। সে সময়ও তিনি সানগ্লাস পরেছিলেন। সৈন্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বিষয়টি তেমন পাত্তা না দিয়ে বলেছিলেন, ভয়ের কিছু নেই। এমনকি মজা করে একে তিনি ‘টাইগারের চোখ’ বলে উল্লেখ করেন ১৯৮২ সালের রকি থ্রি ছবিতে ব্যবহৃত জনপ্রিয় গান আই অব দ্য টাইগার-এর প্রসঙ্গ টেনে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, মাখোঁর চোখে সম্ভবত সাব-কনজাংকটিভ হেমোরেজ হয়েছে; অর্থাৎ চোখের একটি ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গেছে। এটি ক্ষতিকর নয়, ব্যথাহীন এবং দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে না। সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। জোরে হাঁচি, কাশি বা চোখ ঘষার কারণেও এমন হতে পারে। ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, এ অবস্থায় সানগ্লাস চোখ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। তবে জনসমক্ষে অস্বস্তিকর দৃষ্টির বিষয়টি এড়াতে অনেকে চশমা পরতে পারেন। ফরাসি চিকিৎসক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক জিমি মোহাম্মদ বলেন, তিনি একজন জনপরিচিত ব্যক্তি। মানুষ যেন ভাবতে না পারে তিনি অসুস্থ; এই ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যই সানগ্লাস। এটি চোখ নয়, তার ইমেজকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
যদিও মাখোঁর সানগ্লাস পরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে ফরাসি স্ল্যাংয়ে ‘কেকে’; অর্থাৎ শো-অফ বলেছেন। আবার কেউ মজা করে তাকে টপ গান ছবির টম ক্রুজের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সম্মেলনে সানগ্লাস পরে দেওয়া বক্তব্যে মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব যেন স্বৈরতন্ত্রের দিকে না ঝুঁকে পড়ে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন পদদলিত হচ্ছে, সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বে চাপ তৈরিতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রস্তাবিত দখল পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি গাজা ইস্যুতে তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ না দেওয়ায় ফ্রান্সের মদ ও শ্যাম্পেন আমদানিতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন