

মাইক্রোওয়েভে দুপুরের খাবার গরম করার সময় খাবারের গন্ধ নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের সঙ্গে ২ লাখ ডলারের সমঝোতায় গড়িয়েছে। নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় এই অর্থ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ভারতীয় পিএইচডি শিক্ষার্থী আদিত্য প্রকাশ ও তার বাগদত্তা উর্মি ভট্টাচার্য।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পালক পনির’ গরম করার সময় খাবারের গন্ধ নিয়ে আপত্তি তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী। এরপর তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বৈষম্য ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এই দম্পতি। গবেষণা অনুদান ও শিক্ষকতার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি উপদেষ্টার সঙ্গও বিচ্ছিন্ন হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দিতে সম্মত হলেও কোনো দায় স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতে সেখানে পড়াশোনা বা চাকরির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এই ঘটনা প্রকাশের পর ভারতে ‘ফুড রেসিজম’ বা খাবার নিয়ে বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিদেশে খাবার ঘিরে বৈষম্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ডিগ্রি প্রদান করতে রাজি হয়। তবে একই সঙ্গে তারা কোনো দায় স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতে তাদের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা বা চাকরির ওপর আজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৃবিজ্ঞান বিভাগ এখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ করছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। যারা বৈষম্যমূলক নীতি লঙ্ঘন করবে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
তবে আদিত্য প্রকাশ জানান, খাবার নিয়ে এমন বৈষম্যের শিকার তিনি এই প্রথম হননি। ইতালিতে বেড়ে ওঠার সময় স্কুলের শিক্ষকরাও তাকে দুপুরের খাবারের সময় আলাদা টেবিলে বসতে বলতেন। কারণ হিসেবে বলা হতো, তার সহপাঠীরা ভারতীয় খাবারের গন্ধ সহ্য করতে পারে না।
মন্তব্য করুন