বিশ্বে প্রভাবশালী নেতাদের একজন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। বিশ্বরাজনীতি তো বটেই, দেশের রাজনীতিতেও কয়েক বছর আগে অপরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। সেখান থেকে হঠাৎ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানো! মাত্র ৩৯ বছর বয়সে হন ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট। বলা যায়, অনেকটা ধূমকেতুর মতোই তার উত্থান।
১৯৭৭ সালের ২১ ডিসেম্বর উত্তর ফ্রান্সের আমিয়েন্সে জন্মগ্রহণ করেন ইমানুয়েল মাখোঁ। চিকিৎসক মা-বাবার সন্তান মাখোঁ পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী। সাহিত্য, রাজনীতি আর থিয়েটার ছিল তার ভালো লাগার বিষয়।
তার প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয় স্থানীয় জেসুইট স্কুল লা প্রভিডেন্সে। প্যারিসের মর্যাদাপূর্ণ লাসি হেনরি স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক শেষ করেন। ২০০৪ সালে এলিট ইকলা ন্যাশনাল ডি অ্যাফেয়ার্স থেকে স্নাতক এবং পরে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
এরপর শুরু হয় চাকরিজীবন। পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ২০০৭ সালে তিনি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত আত্তালি কমিশনে নিয়োগ পান। পরের বছর সরকারি চাকরি ছেড়ে একটি কোম্পানিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
সংসারজীবনে চমক দেখিয়েছেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের চেয়ে ২৫ বছরের বড় নিজের স্কুলশিক্ষিকার প্রেমে পড়েন। তিন সন্তানের জননী ব্রিজিথ ত্রনিকে ২০০৭ সালে বিয়েও করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সেই সন্তানরাও প্রচার চালিয়েছেন মাখোঁর হয়ে। তাদের দুজনের বয়সের ব্যবধান নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে মাখোঁ ও ব্রিজিথকে। মাঝেমধ্যে এসব সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন মাখোঁ।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সমাজবাদী পার্টির একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন মাখোঁ। ২০১২ সালে ঘটে তার রাজনৈতিক উত্থান। ওই সময় দলের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হন। ওই বছরেই সমাজবাদী পার্টির দলনেতা ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর তিন বছর পর ২০১৫ সালে মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন মাখোঁ। পরে দল থেকে বের হয়ে ২০১৬ সালে গড়ে তোলেন নিজের দল ‘অঁ মার্শ’। তার বিভিন্ন নীতির কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তরুণ ফরাসিদের কাছে। তবে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার ইসলামবিরোধী মন্তব্যের কারণে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।
মন্তব্য করুন