যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিতর্কিত গুচ্ছবোমা দিলে রাশিয়াও একই ধরনের বোমা ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছে। মস্কো বলেছে, কিয়েভকে বিতর্কিত গুচ্ছবোমা দেওয়া হলে তাদের একই ধরনের সমরাস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। খবর রয়টার্স
গত মঙ্গলবার (১১ জুলাই) মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন কিয়েভকে বিতর্কিত গুচ্ছবোমা দিলে মস্কোর সামনে একই ধরনের সমরাস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে।’
শোইগু আরও বলেন, ‘রাশিয়ার কাছে সব ধরনের গুচ্ছবোমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গুচ্ছবোমার চেয়ে আমাদের গুচ্ছবোমা অনেক বেশি শক্তিশালী, এর ব্যাপ্তিও অনেক বেশি।’
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রুশ বাহিনীকে মোকাবিলায় ইউক্রেনকে গুচ্ছবোমা দেওয়ার কথা জানান। এ সময় অজুহাত হিসেবে কিয়েভের গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসছে বলে দাবি করেন তিনি।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জানান, গুচ্ছবোমার ক্ষতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সচেতন আছে। তবে রুশ সেনারা ইউক্রেনের যত বেশি ভূমি দখল করবে তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউক্রেনের নাগরিকরা। ফলে গোলাবারুদ সংকেট থাকা ইউক্রেনকে সহায়তা করতেই এমন সিদ্ধান্ত।
ইউক্রেনকে ভয়ংকর গুচ্ছবোমা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আমেরিকার ওপর নাখোশ রাশিয়াসহ মার্কিন মিত্ররাও। সমালোচকরা বলছেন, এর মাধ্যমে নিজেদের হিংস্র মূর্তি আবার সামনে নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে বিশ্বের ১২৩টি দেশে নিষিদ্ধ এই বোমা। নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়ায় এই ধরনের বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া এসব বোমা অবিস্ফোরিত অবস্থায়ও অনেক বছর থেকে যায়। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও ঝুঁকিতে থাকে সাধারণ নাগরিকরা।
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই ধরনের বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনে ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন।
মন্তব্য করুন