কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৩১ পিএম
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভারতে সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা

মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা বাবা সিদ্দিকি। ছবি : সংগৃহীত
মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা বাবা সিদ্দিকি। ছবি : সংগৃহীত

মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা পূর্ব এলাকার নির্মল নগরে কোলগেট মাঠের কাছে তাকে গুলি করে আততায়ীরা। খবর ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইর

খবরে বলা হয়েছে, ছেলের অফিস থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে চারটি গুলি আঘাত করে ৬৬ বছর বয়সী সাবেক এই মন্ত্রীকে। হামলার পর দ্রুত তাকে লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

নিউজ১৮-এর খবরে বলা হয়েছে, ১৫ দিন আগে খুনের হুমকি পান বাবা সিদ্দিকি। প্রাণহানির হুমকি পাওয়ার পর তাকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও দেওয়া হয়৷ কী কারণে তার ওপর হামলার ঘটনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে হামলায় জড়িত তিনজনের মধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন দাবি করেছেন, তারা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য। বাবা সিদ্দিককে হত্যার জন্য তাদের অগ্রিম তিন লাখ রুপি দেওয়া হয়েছিল। এই হত্যার চুক্তি নেওয়া চারজনের মধ্যে সেই অর্থ ভাগ হয়।

একাধিক সূত্রের ভাষ্য, তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরিকল্পিত এই হত্যার কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে অস্ত্র হাতে পেয়েছিলেন। তিন শুটার দুই মাস ধরে মুম্বাইয়ের কুরলা এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। বাসাভাড়া ছিল মাসে ১৪ হাজার রুপি।

সূত্র বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন দাবি করেন, তারা প্রায় এক মাস ধরে বান্দ্রা পূর্বের শুটিং স্পটটি (গুলির স্থান) রেকি করেছিলেন। তারা বাবা সিদ্দিকির বাড়ি ও অফিস অনেক আগেই রেকি করেন।

সূত্র আরও জানায়, তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি অটোরিকশায় করে শুটিং স্পটে এসেছিলেন। শুটিংয়ের আগে তারা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলেন। পুলিশের ধারণা, বাবা সিদ্দিকির অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য অন্য কেউ এই তিন শুটারকে দিচ্ছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ত্যাগ করেন সিদ্দিকি। যোগ দেন অজিত শিবিরে। তবে তার আগে প্রায় পাঁচ দশক কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন সিদ্দিকি। সত্তরের দশকে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন থেকে মূল স্রোতের রাজনীতিতে এসেছিলেন তিনি।

বাবা সিদ্দিকি ১৯৯৯ সালে প্রথম বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। বান্দ্রা এলাকার জনপ্রিয় নেতা তিনি। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনবার ভোটে জিতলেও ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটে বান্দ্রা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তিনি হেরে গিয়েছিলেন।

বাবা সিদ্দিকি ২০০০ সালে কংগ্রেস-অবিভক্ত এনসিপি সরকারের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ, শ্রম, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং ভোক্তা সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সিদ্দিকি শুধু রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত নন। বলিউডের সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে চর্চা আছে মুম্বাইয়ে। বিভিন্ন সময়ে তার দেওয়া জমকালো পার্টিতে বহু তারকাকে দেখা গেছে। ২০১৩ সালে তার পার্টিতেই অভিমান ভাঙে শাহরুখ খান এবং সালমান খানের। দুই খানকে দুপাশে নিয়ে তোলা তার ছবি স্মরণীয় হয়ে আছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রূপগঞ্জে দোয়া ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

৫ নেতাকে সুখবর দিল বিএনপি 

বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসায় জামানত আরোপ, যা জানা প্রয়োজন

গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ

জেড আই গ্রুপের ডিলার মিট প্রোগ্রাম ২০২৬ অনুষ্ঠিত

ভুয়া মেমো তৈরি করে সার সংকট, অতঃপর...

চুরির আতঙ্কে এলাকাবাসী

রাজধানীতে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে কখন, জানাল তিতাস

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ‘পক্ষ নেওয়া’ চবির অধ্যাপক আটক

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল

১০

তালিমের নামে নারীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীকে জরিমানা

১১

সুষ্ঠু সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার বিকল্প নেই : বিভাগীয় কমিশনার

১২

চ্যাটজিপিটির লেখা শপথে বিয়ে, শেষ পর্যন্ত আদালতেই বাতিল

১৩

সকালে উঠেই পানি পান করা কতটা দরকারি

১৪

যাদের হাতে উঠল ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’

১৫

১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের : আসিফ নজরুল

১৬

যে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাসনিম জারা

১৭

আইপিএল থেকে বাদ মুস্তাফিজ, যা বললেন মঈন আলী

১৮

জামায়াত-এনসিপি জোটের আসন ঘোষণা দু-এক দিনের মধ্যেই : নাহিদ

১৯

সবাই সচেতন হলে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না : ড. সায়মা ফেরদৌস

২০
X