কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪, ০২:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফুটপাত থেকে মাইক্রোসফটের প্রধান ডিজাইনার হওয়া তরুণীর গল্প

মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়া শাহিনা। ছবি : সংগৃহীত
মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়া শাহিনা। ছবি : সংগৃহীত

নিম্নবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে ফুটপাতে। বসবাস করেছেন বস্তিতে। জীবনযাপন করেছেন মানবেতর। অনেক সময় রাস্তায় শুয়েও থেকেছেন।

শুধু তাই নয়, অনেকবার যৌন হেনস্তারও শিকার হয়েছেন তিনি। এত কঠিন বাস্তবতার মাঝেও স্বপ্ন বুনতেন আকাশছোঁয়ার। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে এতটাই বদলে ফেলেছিলেন যে, মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে চাকরির অফার করে বসে।

বলছিলাম ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করা শাহিনা আতারওয়ালার কথা। তার সফলতার গল্পটা ভীষণ অনুপ্রেরণামূলক।

উত্তর প্রদেশ থেকে মুম্বাইয়ে এসে বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি দর্গা গলি বস্তিতে বসবাস শুরু করে শাহিনার পরিবার। তার বাবা ছিলেন হকার। তিনি ফেরি করে কখনো তেল আবার কখনো চুড়ি বিক্রি করতেন।

শাহিনা বলেন, ‘বস্তিতে বসবাস ছিল দুরূহ। সেখানে লিঙ্গবৈষম্য ছিল। প্রায়ই যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটত। তবে এসবই তাকে পড়াশোনায় অতি আগ্রহী করে তোলেছে। উন্নত জীবন গড়তে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।’

শাহিনা প্রথম কম্পিউটার চোখে দেখেন স্কুলে। এরপর থেকে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি তার কৌতূহল বেড়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, কম্পিউটারই নারী-পুরুষের মাঝে সমতা আনতে পারে। যিনি এটির সামনে বসবেন, তারই ভাগ্য বদলে যাবে। তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে পারবেন।’

তবে কম্পিউটার ক্লাস করার সুযোগ পেতেন না শাহিনা। কারণ, তার মেধাক্রম তেমন ছিল না। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতেন না। তবুও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপদান করেছেন তিনি।

স্থানীয় একটি স্কুলে কম্পিউটার ক্লাস করার জন্য বাবাকে ঋণ নিতে বাধ্য করেন শাহিনা। কিন্তু এরপরও অর্থের অভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় তার কম্পিউটার শেখা। অভাব এতই তীব্র হয় যে, ছোট ঘরে বেড়া দিয়ে থাকা সম্ভব না হওয়ায় চলে যেতে হয় ফুটপাতে। কিন্তু হার না মানা শাহিনা বিকল্প চিন্তা করে বসেন।

প্রতিদিন এক বেলা খাবার না খেয়ে এবং স্কুলে বাসের পরিবর্তে হেঁটে গিয়ে জমাতে শুরু করেন টাকা। সেই টাকায় আবারও ভর্তি হন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এবং একটি কম্পিউটার কিনে বাড়িতে শুরু করেন কাজ।

স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে মোম্বাইয়ে একটি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বিকম পাস করেন। পাশাপাশি ডিপ্লোমা করেন ভিজুয়াল কমিনিকেশন অ্যান্ড ডিজাইন নিয়ে।

এরপর বিভিন্ন নামিদামি সংস্থা থেকে চাকরির অফার পেতে থাকেন শাহিনা। শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে মাক্রোফটে প্রধান ইউএক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এই মুসলিম তরুণী।

বস্তি ছেড়ে পরিবার নিয়ে বিলাসবহুল এক অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছেন শাহিনা। তিনি বলেন, তার বাবা হকার ছিলেন, রাস্তায় শুয়ে থাকতে হতো। তবুও স্বপ্ন থেকে পিছপা হননি। সৌভাগ্য, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করার মানসিকতাই তাকে জয়ী হতে সহায়তা করেছে। প্রায় ১ দশকের গ্লানি মুছে দিয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াত আমিরের পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা, ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচি

নির্বাচনে ধর্ম ব্যবসায়ীরা সৃষ্টিকর্তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে : অপর্ণা রায়

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড, পরে উদ্ধার 

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বিএনপির : ডা. রফিক 

মাকে কুপিয়ে হত্যার পর রাস্তায় ফেলে গেল ছেলে

নরসিংদী-৩ আসনে ধানের শীষের উঠান বৈঠকে নারী-পুরুষের ঢল

মুফতি মনির কাসেমীকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

যারা বছরের পর বছর গুপ্ত ছিলো তারা আমাদের গুপ্ত বলছে : জামায়াত আমির

ভোটারই গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি

আরও কমিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

১০

মার্কিন দূতাবাসের নতুন নির্দেশনা

১১

সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে না তুরস্ক

১২

তরুণদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বমানের চট্টগ্রাম গড়ব : সাঈদ আল নোমান

১৩

নেতা হ্যাঁ ভোট চেয়েছে, কর্মীরা না ভোট চাইলে তাদের বলবেন ‘গুপ্ত’ : আসিফ মাহমুদ

১৪

বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার কেউ নাই : ড. জালাল

১৫

বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষের পক্ষে থাকবে : তারেক রহমান

১৬

গণতন্ত্রের রূপকার খালেদা জিয়া, বাহক তারেক রহমান : বুলু

১৭

দেড় বছরে ঢাবিতে ৪১টি কার্যক্রমের উদ্বোধন

১৮

লিচুবাগান থেকে গানপাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

১৯

নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি ও দখল বন্ধ করা হবে : রবিউল বাশার

২০
X