কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ভারী বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে গাজাবাসী

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হামলার মধ্যে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে গাজাবাসী। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে রাস্তা ঘাট, প্লাবিত হয়েছে অনেক অঞ্চল। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতেও। হাজারো গাজাবাসী যুদ্ধ করছে বৃষ্টির পানি ও বন্যার হাত থেকে বাঁচতে।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির খবর।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মানবেতর জীবন পাড় করছেন গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। রাস্তার পাশে নিজেদের জামা কাপড় দিয়ে ত্রিপল বা প্লাস্টিকের তাঁবু টানিয়ে কোনো রকমে পানি থেকে নিজ পরিবারকে রক্ষা করছেন তারা। কেউ কেউ আবার পানি সরাতে বালতি ভরে বালু নিয়ে তাঁবুতে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করছেন। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভেজা কাপড়। ভেসে গেছে রাস্তা ঘাট, গাড়ি, আসবাবপত্র।

হান্না আবু সাইফ নামে এক ফিলিস্তিনি নারী বলেন, আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে পালিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানে এভাবে মরার চাইতে যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হওয়া ভালো ছিল। আল্লাহর কসম করে বলছি আমার মেয়ে সারারাত পানির মধ্যে ছিল। আমাদের সবকিছু ভিজে গেছে। আমরা খাবার পাচ্ছি না, চিকিৎসা পাচ্ছি না। এমনকি খাবার পানি পর্যন্ত পাচ্ছি না।

এক ফিলিস্তিনি মা বলেন , তাঁবু টানিয়েও নিজের বাচ্চাদের বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে পারিনি। রাতে তাঁবুর মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। আমরা শত চেষ্টা করেও পানি আটকাতে পারিনি। আমার বাচ্চারা সবাই ভিজে গেছে। সারারাত তারা পানিতে ভিজে কষ্ট পেয়েছে। এই একটা কম্বল পেঁচিয়ে ওদেরকে নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এখন আমি কী করব? বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাবো?

চিকিৎসকরা বলছেন, গাজায় চরম স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অবশিষ্ট গাজাবাসীদের মধ্যে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছে, গাজা এখন মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন। হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ খাদ্য ও পানি সঙ্কটের পাশাপাশি এখন রোগ ও অনাহারের সঙ্গে লড়ছে।

জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয় (ওসিএইচএ) অনুসারে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ভেতরে প্রায় ৭০ শতাংশ আইডিপি ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে, বাকিরা সরকার পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রে বা হোস্ট পরিবারের সঙ্গে আছেন। এর মধ্যে ছিটমহলের দক্ষিণতম শহর রাফা হতে ৫ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কিশোর বয়সে ইতিহাস গড়লেন ওয়েন কুপার

বড় ভাইয়ের পর এবার গ্রেপ্তার ছোট ভাই

কর্মজীবনে বিরতির পর ফিরে আসা, আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনে এক নারীর গল্প

ক্যারিয়ারের প্রথম গোল্ডেন গ্লোব জয় করলেন টিমোথি চালামেট

এক মাস জিহ্বা পরিষ্কার না করলে কী হতে পারে, জানুন বিশেষজ্ঞের মতামত

নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে যে তথ্য দিল আবহাওয়া অফিস

ঢাবিতে শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু ১৮ জানুয়ারি 

সিলেটে কেন নেই তাসকিন? জানাল ঢাকা ক্যাপিটালস

রাজধানীতে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

১০

যারা পেলেন গোল্ডেন গ্লোবস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬

১১

মেডেল নিয়েই বিদায়, এমবাপ্পের ইঙ্গিতে মাঠ ছাড়ল রিয়াল

১২

গাড়ি থামিয়ে হামিমকে ডেকে কী কথা বললেন তারেক রহমান

১৩

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল

১৪

গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি

১৫

বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে অচলাবস্থা, নতুন যে বিকল্প ভাবছে আইসিসি

১৬

জামায়াত প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর, অংশ নিতে পারবেন না নির্বাচনে

১৭

সীমান্তে গুলি ছুড়ে বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ

১৮

বিকেলে ঢাকায় পৌঁছাবেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৯

বিএনপির যেসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তারেক রহমানের নির্দেশে সরে দাঁড়ালেন

২০
X