কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘ-বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

উঠে এলো গাজার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশের ধ্বংসযজ্ঞের খণ্ডচিত্র। ছবি : সংগৃহীত
আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশের ধ্বংসযজ্ঞের খণ্ডচিত্র। ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ছয় মাস ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। তাদের হামলার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে ছোট এই উপত্যকার বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে শুরু থেকেই গাজার বিভিন্ন জরুরি স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে থাকে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি এই ধ্বংসযজ্ঞ এতই ভয়াবহ ছিল, যুদ্ধের মাত্র চার মাসে প্রায় সাড়ে ১৮ বিলিয়ন বা এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলারের অবকাঠামো হারিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। খবর আলজাজিরার।

মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে এসেছে। প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় চার মাসে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ২০২২ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার সম্মিলিত জিডিপির ৯৭ শতাংশের সমান।

জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ধ্বংসের মাত্রা নজিরবিহীন। অব্যাহত যুদ্ধে গাজার সব বাড়ির প্রায় ৬২ শতাংশ বা ২ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধে গাজায় মোট ক্ষয়ক্ষতির ৭২ শতাংশ আবাসন খাতে হয়েছে। অর্থের মূল্যে এই ক্ষতির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সরকারি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৯ শতাংশ। বাণিজ্য ও শিল্প সম্পর্কিত ভবনে ৯ শতাংশ। জ্বালানি, পানি ও পৌর খাত ৮০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

৮৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে গাজার জনসাধারণ ন্যূনতম সেবা গ্রহণ করতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো গাজার শিক্ষাব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। গাজায় ৬ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে এখন তাদের কেউ আর স্কুলে যেতে পারছে না। ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫৬টি স্কুল ধ্বংস হয়েছে এবং ২১৯টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৪১ মিলিয়ন ডলার।

ইসরায়েলি হামলায় ২৬ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে। এসব ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ক্ষয়ক্ষতির ৮০ শতাংশ গাজা, উত্তর গাজা ও খান ইউনিসে হয়েছে। বিত লাহিয়া ও রাফা এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে এখানেই শেষ নয়। যুদ্ধ এখানো চলছে। তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ গাজার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি সত্য।

প্রতিবেদনে গাজায় মানবিক সহায়তা, খাদ্য সহায়তা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয় ও আবাসন সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বসিলায় চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্পে গিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

তারেক রহমানের সাথে ভুটানের রাষ্টদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির এক নেতাকে অব্যাহতি

টিকে গেলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত কামব্যাক বাংলাদেশের

পাশাপাশি কবরে চির নিদ্রায় শায়িত স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রোল মডেল : ড. মোশাররফ

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা অভিযান নিয়ে নতুন তথ্য

হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

এখনো ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করছে জামায়াত

১০

ক্ষমা চাইলেন আমির হামজা

১১

ভিসাই মিলল না আইসিসির ভারতীয় প্রতিনিধির, কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশের!

১২

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ৪ নারীর মরদেহ উদ্ধার

১৩

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

১৪

পার্কের সামনে মিলল ৩ মাসের শিশু, মেলেনি পরিচয়

১৫

সাধারণ মানুষের অনুদানেই দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা চলে : রবিন

১৬

তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার প্রত্যয় হাবিবের

১৭

যুবদলের সাবেক নেতা নিহত

১৮

আফ্রিকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা, মৃত শতাধিক

১৯

তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন গুমের শিকার সন্তানের মা

২০
X