কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০১:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আরবদের সেনাবাহিনী কেন চরম ব্যর্থ?

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

একসময় আরব বেদুইন যোদ্ধাদের তরবারির মুখোমুখি হওয়াটাই ছিল যেন খোদ আজরাইলের সাক্ষাৎ। আধুনিক এ যুগে এসে সামরিক দক্ষতা ও শৌর্য-বীর্যের পুরোটাই হারিয়েছে আরব দেশগুলো। যে কোনো সংঘাতে তাদের ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কতটা অকর্মণ্য ও কাপুরুষ দিয়ে ভর্তি আরবের সামরিক বাহিনীগুলো। যদিও বিশ্বের বুকে পশ্চিমা আধুনিক অনেক মরণাস্ত্রই রয়েছে তাদের ভাণ্ডারে। এত এত সুবিধা ও মরণাস্ত্র থাকার পরও আরব বাহিনীগুলো কেন অকার্যকর তারই বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় বেশ দক্ষতার পরিচয় দেয় আরব দেশ জর্ডান ও সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। যদিও সামরিক দক্ষতার জন্য খুব একটা প্রশংসা শোনা যায় না এসব দেশের। বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বারবার ব্যর্থতা তাদের যুদ্ধের ময়দানে পুতুল বাহিনী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ ছাড়াও ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধেও বড় ব্যর্থতার পরিচয় দেয় আরব বাহিনীগুলো।

সামরিক খাতে আরব দেশগুলোর এমন লজ্জাজনক ব্যর্থতার জন্য অর্থ কোনো সমস্যা নয়। প্রতি বছর ৬টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এবং মিসর ও জর্ডান মিলে সামরিক ব্যয় বাবদ ১২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। যেখানে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা ২০২৩ সালে সামরিক খাতে ৩৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এ ছাড়াও মিসর ও জর্ডান প্রতি বছর ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব দেশগুলো তাদের সামরিক বাজেটের বেশিরভাগই ব্যয় করে জঙ্গিবিমান ক্রয়ে। যদিও এসব দিয়ে প্রতিপক্ষের হামলা পুরোপুরি মোকাবিলা করা কখনোই সম্ভব নয়। গেল এক দশকে অস্ত্র আমদানির ৫৪ শতাংশই জঙ্গিবিমানের পেছনে ব্যয় করেছে সৌদি আরব। অথচ সমুদ্র বাণিজ্যে সমৃদ্ধ আরব দেশগুলো তাদের নৌবাহিনীর প্রতি তেমন মনোযোগই দিচ্ছে না, বরং সেই দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন নৌবহরের ওপর।

আবার অনেক রাষ্ট্র নৌবাহিনীতে বিনিয়োগ করলেও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে ভুগেছে। জানা যায়, তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতার তার নৌবাহিনীর জন্য ইতালি থেকে নতুন ৭টি জাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর এসব জাহাজ পরিচালনা প্রয়োজন হবে অন্তত ৬৬০ জন নাবিকের, যা বর্তমান কাতারি নৌবাহিনীর এক চতুর্থাংশ জনবলের সমান।

এ ছাড়াও আরবের সামরিক বাহিনীগুলো তাদের শাসকদের রক্ষীবাহিনী হিসেবে কাজ করে থাকে। সৌদি আরবের ১ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী দেশটির শাসক পরিবারের ব্যক্তিগত সুরক্ষা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আর মিসরের সেনাবাহিনী দেশজুড়ে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে বেশি তৎপর।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না : আব্দুল আউয়াল মিন্টু

‘নিউ গাজা’ নিয়ে যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আইজিপির কড়া নির্দেশনা

সব শঙ্কা উড়িয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয় : তারেক রহমান

৯ মাসের শিশুকে হত্যার পর যে কাণ্ড ঘটালেন ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী

‘সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বিশ্বস্ততা’

রাজধানীর ভাটারায় ভয়াবহ আগুন

বাংলাদেশের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন জয় শাহ

১০

শহীদ জাকিরের মেয়ের বিয়েতে উপহার পাঠালেন তারেক রহমান

১১

শোনা হবে না বিসিবির আপিল, ডাক পেতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড

১২

বিপিএলে নতুন ‘রাজা’ শরিফুল

১৩

বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই : মির্জা ফখরুল

১৪

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : প্রধান উপদেষ্টা

১৫

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ  

১৬

আরতি-পুষ্পাঞ্জলিতে বিদ্যাদেবীর আরাধনা, ‘মব’ রুখে দেওয়ার বার্তা

১৭

শরিয়া আইন নিয়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর অবস্থান কী

১৮

ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পদ ছাড়লেন বিসিবি পরিচালক শামীম

১৯

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় অপহরণ, ১৫ দিনেও হদিস মেলেনি স্কুলছাত্রীর

২০
X