

বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ট্রিলিয়নিয়ার (১০০০ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ মাইলফলক অর্জন করেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে রেকর্ড আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, আইপিওর আগে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। তবে স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর তার সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে রয়টার্সের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যালফাবেটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ এর তুলনায় অনেক কম। ফোর্বস ওয়েলথের উপসম্পাদক ম্যাট ডুরোট বলেন, ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনীর সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ফলে ইলন মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের পরিমাণ তার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি।’
বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে বিনিয়োগ করা রয়েছে। কোম্পানিটিতে তার অংশীদারত্বের মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং তার অন্যান্য ব্যবসায়িক সম্পদ যুক্ত হলে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে।
টেসলা ও স্পেসএক্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ইলন মাস্ক ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার কিনে নেন। পরবর্তীতে প্ল্যাটফর্মটি তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মতামত প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া ৫৪ বছর বয়সী ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি টেসলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং সফটওয়্যারনির্ভর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির ধারণা জনপ্রিয় করে বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পে বড় পরিবর্তন আনেন।