কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মশা দিয়েই মশা মারার কৌশল সুইজারল্যান্ডে

সুইজারল্যান্ডের একটি গ্রামে ২০ লাখ এশিয়ান টাইগার প্রজাতির মশা ছাড়ছেন গবেষকরা। ছবি : সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের একটি গ্রামে ২০ লাখ এশিয়ান টাইগার প্রজাতির মশা ছাড়ছেন গবেষকরা। ছবি : সংগৃহীত

মশা দিয়েই মশা মারার কৌশল নিচ্ছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির একটি প্রকল্পে এমন চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই মশার হ্যাচারিতে গবেষণা করছেন গবেষক এলেওনোরা ফ্লাসিও। ল্যাবে মূলত এশিয়ান টাইগার প্রজাতির মশা নিয়েই গবেষণা করা হচ্ছে। খবর ডয়চে ভেলের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণের একটি গ্রাম মরকোটেতে গবেষকরা ২০ লাখ এশিয়ান টাইগার প্রজাতির মশা ছাড়ছেন। এলেওনোরা গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ছোট এই গ্রামের প্রায় ৭০টি বিভিন্ন জায়গায় প্রতি সপ্তাহে কিছু মশা ছাড়ছেন। তবে লাখ লাখ মশা ছাড়া হলেও গ্রামের বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

ওই গ্রামে মশা ছাড়ার বিষয়ে গবেষক এলেওনোরা ফ্লাসিও বলেন, এতে আসলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এই মশাগুলো হচ্ছে নর; যা মানুষকে কামড়ায় না। এরা শুধু উড়ে বেড়ায় এবং কয়েকদিন পরই মারা যায়।

এসব নর মশার এত কম আয়ু হওয়ার কারণ হচ্ছে ল্যাবে অনেক ধকল পোহাতে হয় এদের। তারপর পরিবহনের কারণে বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে এরা। তবে এসব নর মশার আয়ু কম হওয়া সত্ত্বেও মাদি মশার কাছে এরা বেশ আকর্ষণীয়। প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে হয় নর মশাদেরও। নির্বীজ নর মশার বিশাল সংখ্যার কারণে মাদি মশাগুলো তাদের এড়িয়েও চলতে পারে না।

এ বিষয়ে এলেওনোরা ফ্লাসিও বলেন, স্টেরিলাইজড নর মশা মাঠে চরে বেড়ানোর সময় স্বাভাবিকভাবে মাদি মশার সঙ্গে মিলিত হয়। একবার মিলন ঘটলে মাদি মশা সারা জীবনেও আর সন্তান ধারণ করতে পারে না। এভাবে শেষ পর্যন্ত টাইগার মশার গোষ্ঠীর বিনাশ ঘটানো যেতে পারে।

এলেওনোরা ফ্লাসিওর লক্ষ্য পরীক্ষামূলক এলাকায় টাইগার মশার সংখ্যা ৮০ শতাংশ কমানো। ইতালির বোলোনিয়া শহরে কৃষি ও পরিবেশ কেন্দ্রে স্টেরাইল নর মশার প্রজনন ঘটানো হয়। ডিম পাড়ার সময়েই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়। খাঁচার মধ্যে মশার মিলন ঘটে। মাদি মশাকে নিয়মিত পশুর রক্ত খাওয়ানো হয়। কারণ রক্ত না চুষে খেলে সেগুলো ডিম তৈরি করতে পারে না। সেই ডিম এক সপ্তাহের মধ্যেই লার্ভায় পরিণত হয়, তারপর পিউপা বা গুটিপোকায় রূপ নেয়। এই স্তরেই তথাকথিত ‘ডাইমেনশন অ্যানালিসিস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নর ও মাদি আলাদা করা হয়। নর মশা মাদি মশার তুলনায় আকারে ছোট। ফলে শুধু চেহারার ভিত্তিতেই সেগুলোকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আলাদা করা যায়। পিউপাগুলোকে পানির মধ্যে ফেলে এক্স-রে করা হয়। এর ফলে প্রজনন অঙ্গগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখায়। এভাবে নর মশা নির্বীজ হয়ে পড়ে। তবে প্রাণে বেঁচে যায়। তবে, এই প্রক্রিয়া এখনো খুবই ব্যয়বহুল। এক হাজার স্টেরিলাইজড মশার দাম প্রায় ৬০ ইউরোর মতো। ফলে চলতি বছরের এক্সপেরিমেন্টের জন্য প্রায় দুই লাখ ইউরো ব্যয় হচ্ছে। পরীক্ষা সফল হলে এবং আরও বড় আকারে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োগ শুরু হলে ব্যয় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে।

এ বিষয়ে এলেওনোরা ফ্লাসিও বলেন, আমি নিশ্চিত যে, কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া অনেক সস্তা হয়ে যাবে। বাণিজ্যিক স্বার্থ দেখা দিলেই ব্যয় কমে যাবে। অর্থাৎ এই প্রযুক্তি তেমন ব্যয়বহুল নয়। বড় আকারে কাজে লাগালেই ব্যয় কমে যাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পে-স্কেল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কমিশন

পথপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে ডিএনসিসি-ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন

বাসে কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ

কাতারের ঘাঁটিতে কর্মকর্তাদের ফেরাতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

দেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করল হোস্টিং ডটকম

দুদকের মামলায় আবেদ আলী ৩ দিনের রিমান্ডে

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা

৩ দিনের ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করবে ডিএনসিসি

জানুয়ারি মাতাবে পাকিস্তানি ৫ ড্রামা

হাদির হত্যা মামলা অধিকতর তদন্তের নির্দেশ

১০

সংস্কার বাস্তবায়নে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে : ফারুক ওয়াসিফ

১১

আসছে দুই দফায় ৬ দিনের ছুটি

১২

স্থগিত বিপিএল, ক্রিকেটারদের আরেক আলটিমেটাম

১৩

কাঁচা নাকি পাকা পেঁপে, কোনটি ভালো জেনে নিন

১৪

‘এন মোহাম্মাদ সম্ভাবনার নতুন বিশ্বাসে’- ডিলার কনফারেন্স ২০২৫ অনুষ্ঠিত 

১৫

বিপিএল স্থগিত, মেট্রোরেলের বাড়তি ট্রিপ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

১৬

২০২৬ সালের জেসিআই ইন বিজনেস কমিটি ঘোষণা

১৭

বাগানে ফেলে রাখা ব্যাগে বোমা, বিস্ফোরণে স্কুলছাত্র আহত 

১৮

নাটকীয়তা শেষে মনোনয়ন জমা দিলেন আবুল কালাম 

১৯

ইরানে হামলার খায়েশ নেই : ট্রাম্প

২০
X